এবার ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২; সময়: ১১:৪৬ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : এবারে ঈদ যাত্রায় ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ৮৪৪ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৪৪৩ জন নিহত ও ৮৬৮ জন আহত হয়েছে।

তিনি জানান, সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতি বছরের ন্যায় এবারো প্রতিবেদনটি তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানীর বিষয়টি দীর্ঘ ০১ যুগেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, এবারের ঈদে করোনা মুক্তির কারনে বেশি মানুষের যাতায়াত হয়। বিগত ০২ বছর করোনা সংকটের কারনে গণপরিবহন বন্ধ চালুর ফাকে প্রায় ১০ লাখ মোটরসাইকেল ও ২০ লাখ ইজিবাইক রাস্তায় নামে।

ফলে এবারের ঈদযাত্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল, ৪০ লাখ ইজিবাইক বহরে থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কারনে ঈদ যাত্রা কানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বরাবরের মতো বেড়েছে।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৬ এপ্রিল থেকে ঈদ শেষে কমস্থলে ফেরা ১০ মে পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ৮৪৪ জন আহত হয়েছে। বিগত ২০২১ সালের ঈদুল ফিতরে যাতায়াতের সাথে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ১৪.৫১ শতাংশ, নিহত ২২.৩৫ শতাংশ এবং আহত ২৬.৩০ শতাংশ বেড়েছে।

উল্লেখিত সময়ে রেলপথে ২৭টি ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ০৪ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ০৩টি দুর্ঘটনায় ০২জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত, ১১০ জন আহত হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪.০৮ শতাংশ, নিহতের ৩৪.৮৫ শতাংশ এবং আহতের ১৩.০৩ শতাংশ প্রায়।

এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ২০৯ জন চালক, ২৪ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৮ জন পথচারী, ৬২ জন নারী, ৩৫ জন শিশু, ৩৩ জন শিক্ষার্থী, ০২ জন সাংবাদিক, ০৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০২ জন শিক্ষক, ০৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ০১ জন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।

এর মধ্যে নিহত হয়েছে ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ০১ জন পুলিশ সদস্য, ০২ জন ডিজিএফআই সদস্য ০১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ০২ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ৩৫ জন নারী, ০১ জন চিকিৎসক, ২৫ জন শিশু ২৫ জন শিক্ষার্থী, ০২ জন শিক্ষক, ১২৫ জন চালক, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬০ জন পথচারী, ০৫ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে