টিটিইকে বরখাস্ত করা সেই কর্মকর্তাকে শোকজ

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২২; সময়: ১১:৫৬ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ মে) বিকেলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. শাহীদুর রহমান এ আদেশ দেন। বিষয়টি ডিআরএম নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন থেকে ওঠা রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপির স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির ভাগ্নে ও মামাতো দুই ভাই টিকিট না কাটলেও তারা রেলের এসি কেবিনের সিট দখল করেন। এতে রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) তাদের জরিমানা করেন।

পরে ওই ৩ যাত্রী তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে টিটিই শফিকুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাতেই সাময়িক বরখাস্ত করে রেল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। রোববার সকাল ১০ টা থেকে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়াস্থ সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামের কার্যালয়ে শুনানি শুরু করা হয়।

শুনানিতে অভিযোগকারী ট্রেনের যাত্রী রেলপথ মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের বোনের ছেলে ইমরুল কায়েস প্রান্ত, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া টিটিই শফিকুল ইসলাম, গার্ড শরিফুল ইসলাম, ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা ট্রেনের এ্যাটেনডেন্টসহ বেশ কয়েকজন জবানবন্দি দেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, মুখ্য নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযোগকারী যাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্ত, অভিযুক্ত টিটিই শফিকুল ইসলাম, গার্ড শরিফুল ইসলাম, এ্যাটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিআরএম ঘটনার সুষ্টু তদন্তের জন্য তদন্তের মেয়াদ আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়েছেন। এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট যদি কেউ তদন্ত কমিটির নিকট জবানবন্দি দিতে আগ্রহী হন তাদেরও ডাকা হবে। তবে জবানবন্দিতে কে কি বলছেন, তা এই মুহূর্তে জানানো সম্ভব নয় বলে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

হঠাৎ টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা ও তার সম্পর্কে কিছু শব্দ ব্যবহার করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগে বিশদ ব্যাখ্যা সংবলিত পত্র দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীনের কার্যালয় অনুপস্থিত ছিলেন। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহীদুর রহমান বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিসিও নাসির উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন ছুটিতে ছিলাম, আজকেই কাজে যোগদান করেছি। ওই সময় বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়াই ওই ট্রেনের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করেছিলেন ডিসিও নাসির উদ্দিন।

কোনো প্রকার লিখিত না দিয়ে শুধু মৌখিকভাবে এতো দ্রুত বরখাস্ত সমর্থনযোগ্য নয়। একই সঙ্গে টিটিই শফিকুল ইসলামকে মানসিক ভারসাম্যহীন ও বিকারগ্রস্ত বলাটাও সমীচীন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে