ঈদকে ঘিরে সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে: র‌্যাব ডিজি

প্রকাশিত: মে ১, ২০২২; সময়: ১:৫৫ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঈদুল ফিতরকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া যেকোনো নাশকতা ও হামলা মোকাবেলায় কমান্ডো টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার দুপুরে এলিট ফোর্সটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানান র‌্যাব মহাপরিচালক।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক বছরের মতো এবারও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব। সব ধরনের অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় র‌্যাবের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালও আরও বলেন, ঈদুল ফিতরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‌্যাব দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যাটালিয়নসমূহ নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রেখেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে র‌্যাবের বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং সম্পন্ন করা হবে। দেশব্যাপী ঈদ উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থাকবে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজার্ভেশন পোস্ট, চেক পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং।

ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করার জন্য সড়ক, রেল এবং নৌ-পথে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাবের ডিজি বলেন, বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে অস্থায়ী র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপনসহ পথিমধ্যে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সড়ক এবং নৌপথে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করাসহ বিভিন্ন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বাস, পিকআপ, লেগুনা ইত্যাদি যানসমূহের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কিনা তা যাচাই করা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা সম্পর্কে

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অজ্ঞান পার্টি, মলমপার্টি বা ছিনতাইকারীদের অপতৎপরতা রোধকল্পে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টশন, লঞ্চ ঘাট ও অন্যান্য সম্ভাব্য এলাকায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাট বা আশপাশের স্থানসমূহে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সড়কপথে রাস্তায় “যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি’’ রোধকল্পে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও নৌ পথে লঞ্চ চালকেরা যেন প্রতিযোগিতামূলক লঞ্চ না চালান সেজন্য বাস ও লঞ্চ মালিক ও চালকদের সতর্কীকরণ ও সচেতন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন লঞ্চ যেন চলাচল না করতে পারে সেজন্য চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকার ঈদগাহে নিরাপত্তার বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন জানান, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে (জাতীয় ঈদগাহ, শোলাকিয়া ঈদগাহ ও দিনাজপুর বড় ঈদগাহ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে নিরাপত্তা সুইপিং করা হবে। জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে টহল থাকবে। পাশাপাশি র‌্যাব স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করা হবে। জাতীয় ঈদগাহ ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কর্তৃক নিরাপত্তা সুইপিং করা হবে। যেকোনো উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত রিজার্ভ মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও সিসিটিভি কভারেজ থাকবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ্ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যুইপিং পরিচালনার পাশাপাশি র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক আরও বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ঈদের ছুটিতে যাওয়া মানুষের বাসস্থান, কর্মস্থল, শপিংমলসহ অন্যান্য স্থানে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে র‌্যাবের নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর) জেলাসমূহ সহ সারাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসমূহের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের সময়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেই বিষয়ে সহযোগিতা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সকল মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়/প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। সকল মেট্রোপলিটন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরসমূহে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স রিজার্ভ থাকবে।

ব্যাটলিয়নসমূহ নিজ নিজ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে তাদের জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবে। র‌্যাব সদর দপ্তরে কন্ট্রোল রুমের (কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নাম্বারঃ ০১৭৭৭৭২০০২৯) মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হবে।

নাশকতাসহ যেকোন উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক টহল মোতায়েন ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে নাশকতাসহ যেকোন ধরণের উদ্ভুত পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানান র‌্যাবের ডিজি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে