গ্রামের বাড়িতে ছুটছে মানুষ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২২; সময়: ১০:৫০ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে ছুটছে মানুষ। বাস-ট্রেন-লঞ্চ সব যানে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সবাই যে যার মতো পারছেন যানবাহনে চেপে গ্রামের পথ ধরেছেন। ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও লঞ্চঘাট জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কাজলা, শনিরআখড়া এলাকায় মাওয়ামুখী মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের এই রুটে মানুষ বিভিন্ন যানে চেপে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। কাউকে মোটরসাইকেলে, কাউকে অটোরিকশায় আবার কাউকে বিভিন্ন যানে রওনা হতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় কথা হয় সরকারি চাকরিজীবী আমজাদ হোসেন সঙ্গে। যিনি মাওয়া যাওয়ার জন্য একটি বাইক ভাড়া করেছেন। আমজাদ বলেন, ‘গতকাল অফিস ছুটি হওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু শরীর ভালো না থাকায় যেতে পারিনি। এজন্য ভোরে বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু সায়েদাবাদ এসে দেখি লোকারণ্য অবস্থা। দ্রুত যাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা দিয়ে একটি বাইক ভাড়া নিয়েছি। এরপর ফেরিতে নদী পার হয়ে অন্য উপায়ে বাড়ি যাব। কোনো মতে পদ্মা পার হতে পারলে আর তেমন কোনো সমস্যা হবে না।’

ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার এমন চিত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও। ভোর থেকে এসব সড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

উত্তরের পথে যেসব গাড়ি টার্মিনাল ছাড়ছে সবগুলোতে যাত্রীতে ভরা। কাউন্টারে আসার কিছু সময়ের মধ্যেই যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে গাড়িগুলো। এছাড়া যারা বাসের টিকিট পাননি তারা পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত কারে করে রওনা হয়েছেন।

আমিনবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বগুড়ার যাত্রী রফিক জানান, টিকিট কাটার অনেক চেষ্টা করেও বাসের টিকিট পাননি তিনি। উপায় না পেয়ে গাবতলী এলাকায় সকাল থেকে মাইক্রোবাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাইক্রোবাসে ভাড়া বেশি চাওয়ায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বাহনের জন্য ভাড়া কষাকষি করেছেন। পরে আমিন বাজার পার হয়ে ১৫০০ টাকায় মাইক্রোবাসের এক সিট পেয়েছেন।

তিনি বলেন, করোনার কারণে গত বছর একটি ঈদও গ্রামে করতে পারেননি তিনি। যদিও ঈদের আগেপরে অনেক গেছেন। এবার সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ায় বাড়ি যাচ্ছেন তিনি।

রফিক আরও জানান, ‘ভেবেছিলাম রোজার ঈদ হওয়ায় মানুষ বাড়ি কম যাবে। কিন্তু টার্মিনালে এসে আমার সেই ধারণা পাল্টে গেছে। বাড়ি যেতে যদিও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তারপরও যাত্রাটা আমার কাছে মজাই লাগছে।’

এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাটেও সকাল থেকে মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল।

রংপুর এক্সপ্রেসে বাড়ি যাওয়ার জন্য আগেভাগেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এসেছেন আরমান। তিনি বলেন, গত দুই দিন নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়েনি জেনেও সাতসকালেই স্টেশনে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে ভয় লাগছে। বিমানবন্দর স্টেশনেই ট্রেন ভরে কমলাপুরে আসায় ট্রেনে উঠতে পারবো কিনা সেই চিন্তা করছি।

তার পাশেই বসে থাকা আরেক যাত্রী বলেন, চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও মন পড়ে থাকে গ্রামে। ঈদের সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে যাওয়ায় মনে আলাদা প্রশান্তি কাজ করে। যে কারণে শত ভোগান্তির মাঝেও বাড়ি ফেরায় আলাদা ভালো লাগা থাকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে