ছয় মাস প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে শাহজালাল বিমানবন্দর

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২১; সময়: ২:০৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হচ্ছে আধুনিক তৃতীয় টার্মিনাল। পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

এখন টার্মিনালটির ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। তাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ ডিসেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

কর্তৃপক্ষ তৃতীয় টার্মিনালের জন্য ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ করায় রানওয়ে বন্ধ রাখতে হবে। ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকলে কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস, তুর্কি এয়ারলাইনস এবং মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের পরিচালিত ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

এয়ারলাইন অপারেটররা জানায়, ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮৫-৯০টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে হবে। এতে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবার ওপর মারাত্মকভাবে চাপ পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদেশি এয়ারলাইন্সের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগে থেকে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধা না বাড়ালে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।

তিনি বলেন, ১৬ ঘণ্টার মধ্যে সব ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চেক-ইন কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, নিরাপত্তা চেক-ইন কাউন্টার, লাগেজ লোডিং এবং আনলোডিং সুবিধাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধার প্রয়োজন।

তবে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) মনে করে, রানওয়ে বন্ধের ফলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। সিএএবি জানায়, তারা এরই মধ্যে এয়ারলাইন অপারেটর এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং কোনো ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

উদ্যোগের মধ্যে আছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য জনবল বাড়ানো। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১০ ডিসেম্বর থেকে রানওয়ে বন্ধ থাকায় ফ্লাইট বিলম্ব বা পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

১০ ডিসেম্বর থেকে রানওয়ে বন্ধের সময় জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে এয়ারলাইন্সগুলোকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ২৭টি এয়ারলাইন্স ৮৫ থেকে ৯০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রায় ১০ হাজার যাত্রী এখান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে যান।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নতুন করে শুধু একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে, তা নয়। এর সঙ্গে সমান্তরালভাবে আরও চারটি কাজ হচ্ছে। টার্মিনালের পাশাপাশি দুটি হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ে তৈরি করা হচ্ছে।

এ দুটি ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণের কারণ, রানওয়েতে উড়োজাহাজ বেশি সময় থাকার কারণে ওপর থেকে আরেকটি উড়োজাহাজ নামতে পারে না।

এছাড়া পণ্য আমদানি ও রফতানির জন্য দুটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আরো থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তিনতলা ভবন। সব মিলিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে চলছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ।

বর্তমানে এ বিমানবন্দরে গাড়ি পার্কিং একটি বড় সমস্যা। নতুন টার্মিনালে থাকবে একসঙ্গে ১ হাজার ৩০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এখন বছরে সক্ষমতা আছে ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেওয়ার। তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ হলে সেটি উন্নীত হবে ২ কোটিতে। অর্থাৎ বাড়তি ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী নতুন করে সেবার আওতায় আসবেন।

কী থাকছে নতুন টার্মিনালে-

টার্মিনালে ঢুকেই যাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না হয়, সে জন্য থাকছে ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার। চেক ইন পর্ব শেষ করা হলেই ইমিগ্রেশন।

তৃতীয় টার্মিনালে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ। যেটি সংযুক্ত থাকবে উড়োজাহাজের সঙ্গে। বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার তৈরি করা হচ্ছে ৬৪টি।

একই সঙ্গে আগমনী ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে ৬৪টি। আপনার লাগেজ বা ব্যাগ টানার জন্য নির্মাণ করা হবে ১৬টি কনভেয়ার বেল্ট।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তৃতীয় টার্মিনালে মোট ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং থাকবে। অর্থাৎ এক সঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করতে পারবে। এখন ২৯টি অ্যাপ্রোন পার্কের সুবিধা আছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে এখন চারটি ট্যাক্সিওয়ে আছে। নতুন করে আরও দুটি ট্যাক্সিওয়ে যোগ হচ্ছে। রানওয়েতে উড়োজাহাজকে যাতে বেশিক্ষণ থাকতে না হয়, সে জন্য নতুন দুটি ট্যাক্সিওয়ে তৈরি করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে