মানবপাচারের মূল কারণ খোঁজার তা‌গিদ বাংলাদেশের

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১; সময়: ২:০৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মানবপাচারের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের আহ্বান জা‌নিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার এ আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

মানবপাচার রোধে জাতিসংঘের বৈশ্বিক কর্ম পরিকল্পনার মূল্যায়নের ওপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় রাষ্ট্রদূত এ আহ্বান জানান।

তিনি ব‌লেন, মানবপাচারের মূল কারণগুলো বিশেষ করে জলবায়ুজনিত নাজুক পরিস্থিতি এবং সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির মতো বহুমুখী কারণে সৃষ্ট মানবপাচারের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করতে হবে।

মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ যা মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার মৌলিক নীতিগুলোর পরিপন্থী। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে শক্তিশালী আইনি কাঠামো, বহু-অংশীজনের অংশীদারিত্ব ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বরোপ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।

মানবপাচার রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নেয়া বিভিন্ন আইন, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, শ্রমিক পাচারসহ মানবপাচার ও চোরাচালানের মধ্যে যে যোগসাজশ রয়েছে, তা আমলে নিয়েই আমরা জাতীয় পর্যায়ে মানবপাচার বিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকি। এছাড়া এ বিষয়ক আইন প্রণয়নে আমরা ‘পালারমো’ প্রটোকল অনুসরণ করেছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে এসডিজি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সন্নিবেশিত করেছে, যা মানবপাচার রোধে ভূমিকা রেখেছে।

পাচারের শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনজিও ও সুশীল সমাজসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোর কাজের স্বীকৃতি দেন তিনি।

বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মানবপাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি এর মূল কারণ হিসেবে প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত ফা‌তিমা শ্রমিক পাচার হ্রাসে শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জা‌তিসং‌ঘের বাংলা‌দেশ মিশন জানায়, মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক সাধারণ পরিষেদ রেজুলেশনের আওতায় দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মানবপাচার প্রতিরোধে বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। সভার এ বিষয়ক একটি রাজনৈতিক ঘোষণা গৃহীত হয়।

মূল আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য ও ইউএনওডিসি একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্ট আয়োজন করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে