‘আফগানিস্তানের ভবিষ্যত আফগানদের ওপরই’

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১; সময়: ২:২৮ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আফগানিস্তান কোন পথে যাবে তা সে দেশের নাগরিকদের ওপরই নির্ভর করবে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বাংলাদেশ কাজ করতে প্রস্তুত।

শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সৈন্য প্রত্যাহার এবং ২০ বছর পর কট্টরপন্থি ইসলামিক গোষ্ঠী তালেবানের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আফগানিস্তান।

পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে আফগান নাগরিকদের সুরক্ষা এবং তাদের অধিকারের প্রশ্নে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশও এখন পর্যন্ত তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন কিংবা প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এর আগে বলেছিলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এবং তালেবানের নীতি ও কর্মকাণ্ড দেখে বাংলাদেশ ‘নিজস্ব অবস্থান থেকে’ সিদ্ধান্তে নেবে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষা বা চাকরির ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পুরুষের লিখিত অনুমতি নিয়ে সর্বাঙ্গ ঢাকা বোরখা পরে, তবেই নারীরা ঘরের বাইরে যেতে পারত। শরিয়া আইনের নামে দোররা বা চাবুক মারা, হাত-পা কেটে নেওয়া এবং প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো বা পাথর ছুড়ে হত্যার মত শাস্তি ছিল সেসব দিনের নিয়মিত ঘটনা।

দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে এবার নিজেদের নমনীয় ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তালেবান। তারা বলছে, শরিয়া আইন অনুযায়ী নারীরা তাদের অধিকার পাবে। সব চলবে শরিয়া আইনেই। তবে তা কেমন হবে, সেটা এখনও পুরো স্পষ্ট হয়নি। এরই মধ্যে তারা পুরনো কিছু নিয়ম ফিরিয়ে আনার কথা বলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও একাধিকবার বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে একই ধরনের কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারই প্রথম আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।”

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার ‘প্রধান প্রবক্তা’ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

“সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশ সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে