চিকিৎসকদের রাজনীতি ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের আলোচনা সংসদে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১; সময়: ১:২১ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চিকিৎসকের কাজ চিকিৎসা দেওয়া। তারা কেন রাজনীতি করবেন? বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে জাতীয় সংসদের আলোচনায়। আইন করে তাদের রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। তবে তাদের রাজনীতির অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

একই সময়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের দাবিও তোলেন সংসদ সদস্যরা। বিসিএস দিয়ে জনগণের টাকায় বেতন নেওয়া চিকিৎসকরা কেন প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন? এ প্রশ্নও তোলেন তারা। মেডিকেল কলেজ গভর্নেন্স বডি, ১৯৬১ রহিতকরণ বিলের জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের চিকিৎকরা প্রভাব বিস্তার করেন।

কখন কে বদলি হবে, কাকে কে ফেলে দেবে সে পরিকল্পনা করতে থাকে চিকিৎসকরা। আইন করে ডাক্তারদের রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। এ সময় ফিরোজ রশিদ বলেন, ডাক্তাররা রাজনীতি করলে আমাদের কাজ কী? মেধাবিরা তাদের কাজ ফেলে রাজনীতি করতে থাকলে, সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হয়।

বগুড়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ডাক্তারদের রাজনীতি করার কী দরকার? সবাই রাজনীতি করলে ঘর সামলাবে কে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের জায়গায় থাকবে, চিকিৎসকরা তাদের জায়গায় থাকবে।
বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এ হাসপাতালে ইন্টার্নি ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীদের সংঘর্ষ হয়েছে। ডাক্তাররা যদি রোগীদের মারেন, তাহলে তারা কোথায় যাবেন?

এ সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বিষয়ে কথা বলেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, বিসিএস দিয়ে যেসব চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে যোগ দেন, তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। জনগণের পয়সায় বেতন নিয়ে তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস কেন করবেন? যারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন, তারা বিসিএস কেন দেবে?

ঢাকা শহরের বড় বড় হাসপাতালগুলো ডাকাতের ভূমিকা নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব হাসপাতালে চিকিৎসার ফি নির্ধারণ করে দিতে হবে। উপাজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক নিয়োগ দিলে তারা নানা কাজে চলে আসেন। তার সংসদীয় আসনের একটি উপজেলায় ২২ জন চিকিৎসক ছিল, এখন ৩ জন আছে বলে তিনি জানান।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, দেশে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা। যারা সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বরত, তারাই বেসরকারি মেডিকেলে ব্যবসা করছে। নিয়োগের সময় সরকারি ডাক্তারদের শর্ত দিয়ে দিন, যাতে পরে তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে না পারেন।

পরে তার বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে সবাই রাজনীতি করতে পারেন। যদি প্রকৌশলী, আইনজীবীরা রাজনীতি করতে পারেন, তবে চিকিৎসকদের করতে সমস্যা কোথায়। চিকিৎসকরা যদি তাদের কাজ শেষ করে রাজনীতি করেন, তাহলে সেটা করতে পারেন।

ডাক্তাররা সেবা অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রমান দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুরো বিশ্বে করোনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হলেও বাংলাদেশে সেটা ভালোভাবে করা হয়েছে। এ সময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জুড়িশিয়াল সার্ভিসের সাথে চিকিৎসা খাতের তুলনা করলে হবে না। চিকিৎসকদের জন্য পৃথক ক্যাডার সার্ভিস না করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করা যাবে না। সরকারি হাসপাতালেই তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডাক্তারদের ধমক দিয়ে ,ডিসিপ্লিনারি কমিটির কথা বলে সেবা আদায় করা যাবে না। তাদের মোটিভেট করতে হবে। তারা সুযোগ সুবিধায় পিছিয়ে আছেন। চিকিসকদের মধ্যে বঞ্চণা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার।

 

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে