ডিসেম্বরের মধ্যে চার ধাপে ইউপি ভোট

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২১; সময়: ১১:৪৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন মেয়াদ শেষের আগে ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে ভোট করতে না পারায় এতদিন স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা ছিল।

আগামী বছর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হবে বর্তমান ইসির। কোভিড সংক্রমণ নিম্নমুখী হলে এর আগেই ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নির্বাচন উপযোগী সব প্রতিষ্ঠানের ভোট শেষ করতে চায় সাংবিধানিক সংস্থাটি।

বুধবার জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে ফেব্রুয়ারিতে। এ জন্য চার ধাপে ইউপি ভোট ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমন পরিকল্পনা নিয়ে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কিছুটা ‘উন্নতির’মধ্যে ভোটের তারিখ নির্ধারণে বসছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিকালে সিইসির সভাপতিত্বে কমিশন সভা রয়েছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব জানান, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ইউপি, নির্বাচন উপযোগী কিছু পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ, সংসদীয় আসনের উপ নির্বাচন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হবে। স্থগিত প্রথম ধাপের ১৬৭ ইউপি, কয়েকটি পৌরসভা, কুমিল্লা-৭ আসনের ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে কমিশন সভায়। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের ইউপির বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ২৯ অগাস্ট মৌলভীবাজারে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, সারাদেশের ইউপি নির্বাচন, উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচন শেষ করব- এমন পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই- ভোট শেষ হয়ে নতুন জনপ্রতিনিধি আসবে। যে পরিবেশ রয়েছে তাতে নির্বাচন করা যাবে, অসুবিধা হবে না।

তখন তিনি আরও বলেছিলেন, ২ সেপ্টেম্বর কমিশন সভা রয়েছে। সেদিন আমরা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করব। করোনার কারণে যেসব বন্ধ রয়েছে প্রথমে সেগুলো করবো; তারপরে যেসব নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলো ধাপে ধাপে করে ফেলব।

দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপি রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালে ২২ মার্চ থেকে জুন পযন্ত ছয় ধাপে চার হাজারের বেশি ইউপির ভোট হয় দলীয় প্রতীকে। এবারও দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। এবার মহামারীর মধ্যে ১১ এপ্রিল ইউপি ভোট শুরু করতে উদ্যোগও নিয়েছিল ইসি। পরে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তা আটকে যায়। ২১ জুন ২০৪ ইউপির ভোট হয়, আটকে থাকে প্রথম ধাপের ১৬৭ ইউপির নির্বাচন।

করোনাভাইরাস মহামারীর দেড় বছরে গত জুলাই ও অগাস্টের প্রথম দিকে বেশ খারাপ অবস্থা পার করে বাংলাদেশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় নয় দিন তা শিথিল করা হয়েছিল।

ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হলেও এর মধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এরমধ্যেই ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ১ অগাস্ট সব রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খোলার অনুমতি মেলে। এরপর ১১ অগাস্ট থেকে লকডাউন তুলে নিয়ে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, যানবাহন, বিপণি বিতান ও দোকানপাট ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে’ চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়। কয়েক দফার টানা কঠোর লকডাউন শেষে এখন স্বাভাবিক সময়ে ফিরেছে দেশ।

  • 38
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে