করোনা টিকা পেতে বিদেশগামী ২২ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর নিবন্ধন

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২১; সময়: ১১:০৪ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মহামারি করোনাভাইরাসের টিকা পেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করেছেন। শুক্রবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নিবন্ধনকৃত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ যাবেন চীনে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত চীনে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৮ হাজার ৭১৫ শিক্ষার্থী করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন।

করোনা সেলের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে চীনের ৮ হাজার ৭১৫ জন, কানাডার ২ হাজার ৮৪১ জন, যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ৯০৫ জন, ভারতের ১ হাজার ৮৩১, জার্মানির ১ হাজার ৩৯৫, মালয়েশিয়ার ১ হাজার ২৫৫ জন ও যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩৩ জন শিক্ষার্থী।

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের টিকার আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করে টিকা নিচ্ছেন তারা। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

গত ১৩ জুলাই থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়। দুই দফা সময় বাড়িয়ে আগামী শনিবার (৩১ জুলাই) এ নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে হযরত শাহজালাল (রাহও) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনটি বিশেষ ফ্লাইটে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় এসেছে।

এ নিয়ে চীন থেকে মোট ৮১ লাখ ডোজ টিকা এল বাংলাদেশে। পর্যায়ক্রমে এগুলোকে তৃণমূলে দেওয়া হবে বলে জানান ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য ডা. শামসুল হক।

ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক জানান, আমরা এর আগে অ্যাস্ট্রাজেনেকার থেকে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছি। ফাইজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার। মর্ডানার থেকে প্রায় ৪৫ লাখ। চীন থেকে আগে পেয়েছি ৫১ লাখ এবং বৃহস্পতিবার এলো ৩০ লাখ।

কোভিড টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ডোজ পেতে আর সমস্যা হবে না জানিয়ে ইপিআইয়ের ম্যানেজার ডা. মাওলা বক্স জানান, বয়স্কদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে। এরই মধ্যে টিকা সংরক্ষণের জন্য সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ৬৯৮টি স্টোরেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ৮ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। এরপর তা ব্যবহারে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশও।

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওই দিন ২১ জনকে টিকা দেওয়া হয়। পরদিন রাজধানীর ৫টি হাসপাতালে ৫৪৬ জনকে পর্যবেক্ষণমূলক টিকা দেওয়া হয়েছিল।

এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম টিকা নেওয়ার ৬০ দিন পর ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। দেশে টিকাগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন প্রায় এক কোটি ৪১ লাখ মানুষ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন ৮৫ লাখ ২১ হাজার ৩৫০ জন। দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছেন ৪৩ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৪ জন। দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

 

  • 432
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে