মাদক এলএসডির পর দেশে নতুন মাদক ম্যাজিক মাশরুম ভয়ংকর বিপদ

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১; সময়: ৭:০৫ pm |
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মাদক এলএসডির পর দেশে নতুন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর মাদক ম্যাজিক মাশরুম। এতদিন দেশে এ ধরনের মাদক ব্যবহারের আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ম্যাজিক মাশরুমের একটি চালান ধরা পড়ে।

এরপর মাদকটি নতুন করে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এলএসডির চেয়েও বেশি ভয়ংকর। এটি শরীরে ভয়ংকর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। হ্যালোসিনেশন মাদক হিসাবে এটি ব্যবহারের খুব অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারী মৃত্যুর মুখে পড়ে। সারা বিশ্বের মাদক সাম্রাজ্যে ম্যাজিক মাশরুম এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক মাদক। এর উপাদানের মধ্যে সাইলোসাইবিন রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক দিয়ে তৈরি সাইলোসাইবিন হ্যালোসিনেশনের পাশাপাশি নানারকম ভ্রম তৈরি করে।

এ মাদক যারা গ্রহণ করেন তারা নানা আত্মঘাতীমূলক কর্মকাণ্ড করেন। এমনকি তারা আত্মহত্যা পর্যন্ত করেন। অনেকদিন ধরে ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বে ম্যাজিক মাশরুমের ব্যবহার হয়ে এলেও বাংলাদেশে অভিজ্ঞতাটি একেবারেই নতুন।

মঙ্গলবার রাতে ম্যাজিক মাশরুমের পাঁচটি বারে ১২০টি স্লাইস ও দুই বোতল মদ জব্দ করে র‌্যাব-১০ এর একটি টিম। ম্যাজিক মাশরুম দেশে আনা, সেবন ও বিক্রির অপরাধে দুই তরুণ নাগিব হাসান অর্ণব ও তাইফুর রশিদ জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গত মে মাসে কানাডা থেকে ‘ম্যাজিক মাশরুমের’ ৩০টি বার দেশে নিয়ে আসে অর্ণব। একেকটি বার ২৫ হাজার টাকায় তিনি বিক্রি করেন। দেশে অনেকে এ মাদক সেবন করছেন। হাতিরঝিল থানার ইন্সপেক্টর আব্দুর রশিদ জানান, গ্রেফতার দুইজনকে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।

তাদের তিন দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। কবে থেকে এবং কীভাবে ম্যাজিক মাশরুম দেশে ঢুকেছে সে বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, মাদকগুলো দুই বছর ধরে দেশে আনা হচ্ছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে এলএসডি-ডিএমটি-এমডিকে-ম্যাজিক মাশরুম ঢুকেছে বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু এগুলোর আকার এত ছোট যে ধরা কষ্টকর। তিনি বলেন, মাদকগুলো মূলত আকাশপথে আসছে। অনলাইন কুরিয়ার করে অথবা পকেটে করে কেউ এ মাদক আনতে পারে। এখন পর্যন্ত আমরা যেগুলো আটক করেছি-সেগুলোর কিছু ইন্টরন্যাশনাল কুরিয়ারের মাধ্যমে এসেছে। আবার দেশে আসার সময় কেউ কিছু নানাভাবে নিয়ে এসেছে।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, দেশে নতুন মাদকের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ডার্কসাইটে ৪০-৫০ কানাডিয়ান ডলারে ম্যাজিক মাশরুম কিনতে পাওয়া যায়। দেশে প্রতিটি বার ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। যারা মাদক সেবন করেন তাদেরও নতুন মাদক আকর্ষণ করে। যারা ইয়াবা-গাঁজা খান তারাও ওইগুলো নিয়েই আছেন। তবে উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণ-তরুণীরা মাদকগুলো বেশি নিচ্ছে। যারা গ্রুপ কালচারে অভ্যস্ত, যাদের কাছে নেশার চাইতে ‘চার্মিং’ বিষয়টি বেশি তাদের কাছে এগুলো গুরুত্ব পায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক কর্মকর্তা দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ম্যাজিক মাশরুম ভয়ংকর হ্যালোসিনেশন তৈরি করে। এটি এলএসডির চেয়েও ভয়ংকর। এ মাদক সেবন করলে মস্তিষ্কে ভ্রম তৈরি হয়।

সেবনকারীর শরীরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তখন মাদকসেবী নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। হয়তো কেউ এটি খেয়ে ছাদে গেল। তখন তার মনে হবে আরেকটু সামনে গেলেই মেঘ ধরা যাবে, আকাশ ধরা যাবে। এভাবে ছাদ থেকে পড়ে মাদকসেবী মারা যায়। তিনি বলেন, ভয়ংকর মাদক জিএইচবিএ (গামা-হাইড্রক্সিবিউরিক এসিড) দেশে প্রবেশ করবে না সে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। এটি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ড্রাগ, যা আমরা নতুন আইনে যুক্ত করেছি।

দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, তিন বছর আগে কলকাতায় ম্যাজিক মাশরুম ধরা পড়ে। তখন থেকে আসলে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে ম্যাজিক মাশরুমসহ দুইজন আটক হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেটের বদৌলতে এখন অনলাইনে সারা বিশ্ব থেকে নানা ধরনের মাদক অর্ডার করা যায়। এটি ডার্কনেটে করা হয়। সেখানে বিচিত্র রকমের ড্রাগ পাওয়া যায়। বিট কয়েনসহ নানাভাবে লেনদেন হয়। এ জগতের সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কতটা জড়িয়ে গেছে সে বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

জানা গেছে, ‘ম্যাজিক মাশরুম’ সেবনে মানসিক রোগ-সাইকোসিরেস, অনিদ্রা, অরুচি ও চোখ ফুলে যায়। এ মাদক সেবনকারীরা জীবজন্তুর সঙ্গে কথা বলে, গাছ থেকে অক্সিজেন আসছে কি-না তা অনুভব করাসহ নানাকিছু অনুভব করে। মাত্র ৫ থেকে ১০ মিলিগ্রাম সেবনে হ্যালুসিনেশন শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়া ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। শুধু তাই নয়-আত্মঘাতী হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অনেকে নিজের শরীরেও আঘাত করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে