ড্রাইভিং লাইসেন্সের জট খুলতে আরো অন্তত ৬ মাস সময় লাগবে

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২১; সময়: ৯:১৬ pm |
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রিন্টের অপেক্ষায় থাকা ১১ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জট শেষ হতে লাগতে পারে আরও অন্তত ৬ মাস।নতুন ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সহসাই এসব লাইসেন্স সরবরাহ করতে পারবেন না তারা। তবে নতুন করে আবেদনকারীদের লাইসেন্স পেতে সমস্যা হবেনা বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

আসাদুজ্জামান পেশায় এক গাড়িচালক। পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন ২ বছর আগে। অন্য সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও তার লাইসেন্সটি প্রিন্ট হয়নি এখনো।

বিআরটিএর মিরপুর শাখায় সরেজমিনে দেখা গেল, অনেকেই এসেছেন লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড নিতে কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে সবাইকেই। অস্থায়ী লাইসেন্সের মেয়াদ ৬মাস থেকে ১ বছর বাড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করছে বিআরটিএ।

ভুক্তভোগীরা জানায়, আমরা অনেকেই লাইসেন্স করতে দিয়েছি প্রায় দেড় বছর হয়ে গিয়েছে এখনো স্মার্ট কার্ড পাইনি হাতে। তারা শুধু সিল মেরে তারিখ বাড়ায়া দেয়। কিন্তু আমাদের যখন ট্রাফিক পুলিশ ধরে তারা এই সিল ডেট কিছুই মানে না। দুই আড়াই বছর ধরে ঘুরেও কার্ড আর হাতে পাই না।

২০১৬ সালের টাইগার আইটির সঙ্গে বিআরটিএর চুক্তি হয় ৫ বছরে ১৫ লাখ লাইসেন্স প্রিন্টের। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সড়ক আন্দোলনের কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার হিড়িক পড়ে যায়। ফলে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ১৪ লাখ লাইসেন্স প্রিন্ট করতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। এরপর থেকেই মূলত জট লাগা শুরু হয়।

নতুন ঠিকাদার ঠিক করতে দরপত্র আহ্বান করে বিআরটিএ। তবে টাইগার আইটি এবং বর্তমান ঠিকাদার মাদ্রাজ প্রিন্টার্সের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় দরপত্র বাতিল করতে বাধ্য হয় বিআরটিএ। নতুন করে দরপত্র আহ্বান ও করোনার প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় তিন বছরে প্রিন্টের অপেক্ষায় জমা হয়েছে ১১ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স।

বিআরটিএ বলছে , লাইসেন্স প্রিন্টিংয়ের জট খুলতে শুরু করেছে। ৪০ লাখ লাইসেন্স প্রিন্টিং করা কাজ পাওয়া মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স কাজও শুরু করেছে। তবে ঝুলে থাকা কাজ সহসাই শেষ হচ্ছেনা।

বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, নতুন একটা কোম্পানী কাজ পাওয়ার পরে কড়য়ান মহামারীর কারণে তাদের লোকবল কমে যাওয়ায় সময় লাগছে। আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তবে নতুন যারা ক্যান্ডিডেট তারা যথাসময়েই লাইসেন্স পেয়ে যাবে। এখনও প্রতিদিনই সারাদেশে কয়েক হাজার করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করা হচ্ছে। বিআরটিএ বলছে, প্রতিদিন ২৫ হাজার করে লাইসেন্স প্রিন্ট করার সক্ষমতা রয়েছে মাদ্রাজ প্রিন্টার্সের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে