দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েও করে যাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রধানের সরকারি চাকরি

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২১; সময়: ১০:২১ pm |
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দ্বৈত নাগরিকত্ব সরকারি দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রধানের। আইনে নেই তবুও তারা নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার। সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রধান দুই কর্মকর্তা দ্বৈত নাগরিক।

আইনে বলা আছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবেন না। আইন অমান্য করে তাদের একজন নাগরিকত্ব নিয়েছেন কানাডার এবং অপরজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। শুধু তাই নয়, বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-ডিপিডিসির হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ইএসপিএসএন এর প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান। চাকরিতে থাকতেই নাগরিকত্ব নিয়েছেন কানাডার।

এ ব্যাপারে গেলো বছর সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যেখানে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

কিন্তু, প্রকৌশলী মাহবুবের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এখনো তদন্তেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানান ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান। তিনি বলেন, আমার কাছে এমন একটা তথ্য এসেছে। আমরা তা যাচাই বাছাই করছি। আর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হাজার কোটি টাকার রস্ক প্রকল্পের প্রধান উপসচিব মাহবুব হাসান শাহীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন ২০১১ সালে। যেখানে মাহবুব নিজেকে বাংলাদেশের সাবেক নাগরিক হিসেবে দেখিয়েছেন।

উপসচিব মাহবুব আমেরিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে পরিবারের সাথে অবস্থান করলেও এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যভান্ডারে। বিষয়টি নিয়ে ২২তম বিসিএস ক্যাডার মাহবুবের সাথে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি মিটিংয়ের কথা বলে এড়িয়ে যান।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা তদন্তের জন্য একটা কমিটি করেছি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে কমিটি করেছি তারা নিয়ম-কানুন পর্যালোচনা করে যদি এটি বাস্তব ঘটনা হয় তাহলে বিধি অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমিটিকে সময় বেধে দেয়া হয় নাই তবে আমরা তাদের তাগিদ দিব।

সরকারের আইন কর্মকর্তারা বলছেন, দুইজন কর্মকর্তাই আইন অমান্য এবং তথ্য গোপন করায় চাকরিতে বহাল থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নী জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, যদি কেউ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিয়ম নীতি না মেনে বা তথ্য গোপন করে বিদেশের কোন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বিষয়ে তদন্ত হবে এবং ৩২ ধারা অনুযায়ি তার লঘুদণ্ড,গুরুদণ্ড বা চাকরিও চলে যেতে পারে। যেহেতু তথ্য গোপন করবেন ফলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি যে অপরাধ তার উপাদান যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে দ্বৈত নাগরিকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩১ জন। এদের মধ্যে ১০ হাজার ৭৭৪ জন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে