লকডাউনেও মাঠে থাকছে দুদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২১; সময়: ১০:৫৭ pm |
খবর > জাতীয়

পদ্মাটইমস ডেস্ক : করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। সরকারের নতুন আদেশ অনুযায়ী এ সময় দেশের সব অফিস-আদালত, শপিংমল, দোকানপাট, হাট-বাজার বন্ধ থাকছে। বন্ধ থাকছে সবধরনের পরিবহন চলাচলও। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। এমন নির্দেশনার পরও মাঠে থাকছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের কোভিড- ১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে দেওয়া প্রথম লকডাউনের মতো এবারও বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডের দুর্নীতি রোধে মাঠে থাকছে কমিশন। করোনার প্রতিকূল পরিবেশে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরো মাত্রায় অব্যাহত না থাকলেও দুর্নীতি প্রতিরোধে পাহারাদার হিসেবে জেগে থাকবে দুদকের গোয়েন্দা, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ।

এ বিষয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুদক তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। দুদক শুধু অফিসিয়াল কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটির গোয়েন্দা বিভাগ, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ রয়েছে। সেখানে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যান। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ থেমে থাকবে না। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যতটুকু সম্ভব দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুদক তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। দুদক শুধু অফিসিয়াল কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটির গোয়েন্দা বিভাগ, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ রয়েছে। সেখানে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যান। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ থেমে থাকবে না বলেন ড. মোজাম্মেল হক, কমিশনার (অনুসন্ধান) দুদক।

দুর্নীতিগ্রস্তরা যেকোনো দুর্যোগকালে দুর্নীতি ও অপকর্মে অধিকতর মনোনিবেশের সুযোগ গ্রহণ করে বিধায় দুদক সবসময় তাদের দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বিবেচনায় রাখে। তাই স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারের যাবতীয় নির্দেশাবলী প্রতিপালন করেই দুদক কর্মকর্তাগণ তাদের অনুসন্ধান, তদন্ত কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখবেন— বলেন দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান।

২০২০ সালে আলোচিত মাস্ক কেলেঙ্কারি, করোনা টেস্ট জালিয়াতি, ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ, চিকিৎসা জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটে। কোভিড- ১৯ এর প্রাদুর্ভাবের শুরুতে নকল মাস্ক ও পিপিই সরবরাহ, ভুয়া করোনা রিপোর্ট প্রদানসহ স্বাস্থ্য খাতে শত শত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনাও আলোচিত। সে সময় প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে অভিযান চালাতে হয়েছিল রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুদককে।
করোনার মধ্যেও অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবেন দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ এমন কাজে প্রাণ হারিয়েছেন দুদক পরিচালকসহ তিনজন। আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ মোট ১২৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকেও রক্ষা পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে দুজন পরিচালক, চারজন উপপরিচালক, ছয়জন সহকারী পরিচালক এবং অন্যান্য পদের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

মাস্ক দুর্নীতি : করোনার মতো অতিমারির মধ্যেও নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্যের সরঞ্জাম ক্রয় ও সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ছিল গত বছরের আলোচিত ঘটনা। দুদকের অনুসন্ধানেও এর সত্যতা মেলে। অনিয়মের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ছয় কর্মকর্তা ও জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের কর্ণধার মো. আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহারে জেএমআই গ্রুপের ২০ হাজার ৬১০টি সরবরাহ করা মাস্ক এন- ৯৫ নয় বলে উল্লেখ করা হয়। যার তদন্ত এখনও চলমান।

ঝুঁকিপূর্ণ এমন কাজে প্রাণ হারিয়েছেন দুদক পরিচালকসহ তিনজন। আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ মোট ১২৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকেও রক্ষা পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন।

রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি : লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, মেমরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) করতে অনিয়ম এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে কোভিড পরীক্ষা করেও অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে গেল বছর। এমন অনিয়মের ঘটনায় আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম চরিত্রটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাহেদ এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করলেও আসামি করা হয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদকে। মামলায় তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া সাহেদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংকঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের পৃথক মামলা দুদকের তদন্তাধীন। কঠোর লকডাউনের মধ্যেও দুর্নীতি প্রতিরোধে পাহারাদার হিসেবে জেগে থাকবে দুদক।

জেকেজির ভুয়া সনদ : ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে কোভিড- ১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিলেও টাকা আদায় করে জেকেজি হেলথকেয়ার। এমনকি নমুনা পরীক্ষা না করেও রোগীদের ভুয়া সনদ দিচ্ছিল তারা। এসব অভিযোগে গত বছরের ২২ জুন জেকেজির সাবেক দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়। করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দিয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের আট কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় অভিযোগে ডা. সাবরিনা আরিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। যা বর্তমানে শেষপর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনার মহাসংকটের সময়ও দেশের দুষ্টচক্র থেমে ছিল না। সে কারণে মাস্ক কেলেঙ্কারি, করোনা টেস্ট জালিয়াতি, ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ, চিকিৎসা জালিয়াতির মতো ঘটনা আমাদের সামনে আসে। আমরাও দায়িত্ব পালনে পিছ পা হইনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম
ইকবাল মাহমুদ, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান।

এমপি পাপুল দম্পতির কাণ্ড : জনশক্তি রফতানিকারক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সে দেশের পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ আনে দেশটির প্রসিকিউশন।

সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে গিয়ে পরবর্তীতে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের কোটায় সংরক্ষিত একটি আসনে স্ত্রী সেলিনাকেও এমপি করেন। পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেখানে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে তাদের নামের ৬১৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েতের ফৌজদারি আদালত থেকে গত ২৮ জানুয়ারি ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন পাপুল। যে কারণে তার আসনটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের এত সম্পদ : স্বাস্থ্য অধিদফতরের আলোচিত গাড়িচালক আবদুল মালেকের চারটি বাড়ি ও তিনটি প্লটসহ শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে দাবি ছিল র‌্যাব ও দুদকের। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের মামলায় মালেক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তুরাগের বামনারটেক এলাকার একটি সাততলা ভবন থেকে গ্রেফতার হন আবদুল মালেক।

ত্রাণ আত্মসাতে জড়িত ৯৪ চেয়ারম্যান ও মেম্বার : করোনাকালীন সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির ত্রাণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় ৯৪ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ৯৪ জনপ্রতিনিধির মধ্যে ৩০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৬৪ জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। রাজধানীর দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়।

সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২১টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় অনেকে গ্রেফতারও হন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টার রোলের মাধ্যমে সরকারি চাল আত্মসাৎ, সরকারি ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি, জেলেদের ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম, উপকারভোগীদের ভুয়া তালিকা প্রণয়ন করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির মামলা : স্বাস্থ্য খাতের যন্ত্রপাতি ক্রয় নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি অভিযোগে চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ঠিকাদার ও ক্রয় কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৪টি মামলা দায়ের করে দুদক। করোনার বছরেও থেমে ছিল না এ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা।

করোনার বছরে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১১টি মামলা দায়ের করে দুদক। যদিও পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাসেবা বিবেচনায় নিয়ে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের গতি কমিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে ৭০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ভিআইপিদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান নিয়ে কম-বেশি আলোচনায় ছিল রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

এ বিষয়ে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, করোনার মহাসংকটের সময়ও দেশের দুষ্টচক্র থেমে ছিল না। সে কারণে মাস্ক কেলেঙ্কারি, করোনা টেস্ট জালিয়াতি, ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ, চিকিৎসা জালিয়াতির মতো ঘটনা আমাদের সামনে আসে। আমরাও দায়িত্ব পালনে পিছ পা হইনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে