টেক্সাসে বাংলাদেশি পরিবারের ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২১; সময়: ১:৪০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আমেরিকার টেক্সাসে দুই ভাই মিলে পরিবারের সবাইকে গুলি করে হত্যা করে নিজেরাও আত্মহত্যা করেছে । ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৫ এপ্রিল) ভোর রাতে। টেক্সাসের এলেন সিটির পুলিশ টেলিফোন পেয়ে ওই বাসায় গেলে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে।

এলেনের পুলিশ জানায়, ঘটনাটি দেখে মনে হচ্ছে, কিশোর বয়সী দুই ছেলে আত্মহত্যা করার বিষয়ে একমত হওয়ার পর তাদের পরিবারের বাকি সদস্যদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। মা-বাবা, বোন ও নানিকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে ওই পরিবারের দুই কিশোর ভাই।

পিতা (৫৬), মাতা (৫৪) , বোন (১৯) এবং দাদি (৭৭)কে হত্যার পর দুই ভাইও যাদের বয়স বলা হচ্ছে ২১ ও ১৯ তারাও নিজেরা নিজেদের গুলি করে সুইসাইড করে । এই পরিবারে এক ভাই- বোন জমজ ছিলেন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোট থেকে পুলিশ এরকম ধারণা করছে। নিহতদের পরিবারের এক বন্ধুর ফোন পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

সুইসাইড নোটে নিহত পরিবারের কর্তা তৌহিদুল ইসলাম (৫৬)-এর এক ছেলে ফারহান উল্লেখ করেছে, ২০১৬ সালে নবম গ্রেডে পড়ার সময় আমি বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছিলাম এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। এজন্যে আমি পরীক্ষায় ফেল করি। আজ আমি নিজের শরীর দু’বার কেটেছি। খুবই কষ্ট পেয়েছি। মনে আছে ২০১৭ সালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে কেটেছিলাম। অনুভব করেছি কতটা অসহনীয় যন্ত্রণা। এরপর প্রায় দিনই শরীরে রান্নাঘরের চাকু দিয়ে কেটেছি। বিষন্নতার দুঃখবোধ লাঘবের পথ খুঁজেছি। এ অবস্থায় আমার ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধু আমাকে ত্যাগ করেছে। এমনি হতাশার মধ্যে আমি হসপিটালে ভর্তি হই। এরপর আমি ভেবেছি যে, এবার জীবনটা সঠিকভাবে এগোচ্ছে। বাস্তবে তা ঘটেনি। বিষন্নতায় জর্জরিত হয়ে পুনরায় আমি নিজের শরীর রক্তাক্ত করি এবং কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় ঘুমাতে যাই। সান্ত্বনা খুঁজি যে, আমি সুস্থ হয়েছি। অন্যদের মতই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি সত্য নয়।

সে আরো লিখেছে, আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে গোটা পরিবার কষ্ট পাবে। সেরকম যেনো না হয় সেজন্যে পরিবারের সকলকে নিয়ে মরে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড়ভাইকে আমার সঙ্গে রাজি করালাম। দু’ভাই গেলাম বন্দুক কিনতে। আমি হত্যা করবো ছোটবোন আর নানীকে। আমার ভাই করবে মা-বাবাকে। এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করবো। তাহলে পরিবারের কেউ থাকবে না কষ্ট পাবার।

সুইসাইড নোটে ফারহান এও লিখেছে যে, আমেরিকায় বন্দুক কেনার ব্যাপারটি খুবই সহজ। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের নামে তামাশা চলছে । বড়ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে, বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার। দোকানি কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলে সেখানে স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেলাম কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি।

উল্লেখ্য,হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাংলাদেশের চ্যানেল ২৪-এর চিফ ক্যামেরাম্যান হাসান হাফিজুর রহমান রিপনের মা, বোন, বোনের স্বামী, দুই ভাগনে ও এক ভাগনি।

হাফিজুর রহমান রিপনের মায়ের বাড়ি পাবনা শহরে। রিপনের মা, বোন আর বোন জামাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অন্যরা জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে