ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে যা করবেন

প্রকাশিত: মে ৩, ২০১৯; সময়: ১০:১২ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রবলশক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফনি। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় সাড়ে তিন হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে সরকার। ফনির দরুণ উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

ঘূর্ণিঝড়ের আগে কী করণীয় সে বিষয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরামর্শও দিয়েছেন।

• গুজব এড়িয়ে চলুন, শান্ত থাকুন এবং আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না।

• মোবাইল ফোনের সংযোগ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে রাখুন। যাতে প্রয়োজনে খুদেবার্তা পাঠাতে পারেন।

• আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য নিতে রেডিও শুনুন, টেলিভিশন দেখুন এবং পত্রিকায় নজর রাখুন।

• পানি প্রতিরোধী এমন কিছুর ভেতর মূল্যবান জিনিপাতি ও নথিপত্র রাখুন।

• নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ একটি থলে প্রস্তুত রাখুন।

• গবাদিপশু ও প্রাণী নিরাপদে রাখুন। গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক রাখুন এবং জায়গা চিনিয়ে রাখুন।

• বাড়ির চারপাশ, গ্রাম, সড়ক ও বাঁধের ওপর গাছ রোপণ করুন।

• যথাসম্ভব উঁচু স্থানে ঘর নির্মাণ করতে হবে। পাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের স্তম্ভ এবং অবকাঠামো দিয়ে তার ওপর ছাউনি দিন। সাধারণত ছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে গিয়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত হতে পারে। তবে শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্ববিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে।

• টিউবওয়েল বসাতে হবে উঁচু জায়গায়, যাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি সেটিতে ঢুকতে না পারে।

• মৎস্যজীবীদের নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সকাল, দুপুর ও বিকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করতে হবে।

• বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি) রাখলে ভালো হবে।

• জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষার নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিন।

• নারী-পুরুষ, ছেলেমেয়ে সবাইকে সাঁতার শিখতে হবে।

• ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেয়া যাবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবে, তা ঠিক করে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হবে।

• সামর্থ্য থাকলে ঘরের মধ্যে একটি পাকা গর্ত খুঁড়ুন। জলোচ্ছ্বাসের আগে এই পাকা গর্তে অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন।

• ডায়রিয়া মহামারীর প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। শিশুদের ডায়রিয়া হলে কীভাবে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন।

• ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুটজাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো।

• নোংরা পানি কীভাবে ফিটকারী বা ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে নারীদের এবং আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন।

• ঘূর্ণিঝড়ের পরে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন। বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। মাটির বড় হাঁড়িতে বা ড্রামে পানি রেখে তার মুখ ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে, যাতে পোকা-মাকড়, ময়লা-আবর্জনা ঢুকতে না পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে