মলদ্বারে ক্ষত ও রক্তক্ষরণ হলে করণীয়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২২; সময়: ১১:১৭ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মলদ্বারে জটিল বহু রোগ আছে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অনেক সময় মলদ্বারের দেয়ালের পর্দা ফেঁটে যেতে পারে। আবার ক্ষত হয়ে গিয়ে রক্তক্ষরণও হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না নিলে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

মলদ্বারের দেয়ালের পাতলা প্রথম আস্তর ফেটে বা ছিঁড়ে যখন ক্ষতের সৃষ্টি হয় সেই ক্ষতকে এনাল ফিশার বলা হয়ে থাকে। মলত্যাগের সময় যখন শক্ত অথবা বড় আকারের মল পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে এনাল ফিশারের সূচনা করে। মলত্যাগে ব্যথা এবং রক্তক্ষরণ এনাল ফিশারের প্রধান উপসর্গ। এনাল ফিশার হলে মলদ্বারে যে মাংসপেশি (এনাল/মলদ্বার স্ফিংটার) থাকে সেই পেশির ব্যথাযুক্ত সংকোচন অনুভূত হতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রকিবুল আনোয়ার।

সচরাচর ছোট শিশুদের এনাল ফিশার হলেও যে কোনো বয়সেই এনাল ফিশার হতে পারে। মধ্য বয়সেও এনাল ফিশার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

বেশিরভাগ এনাল ফিশার সহজ সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমেই ভালো করা সম্ভব যেমন খাবারে বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল যোগ করা, অধিক পরিমাণে পানি পান করা ইত্যাদি। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধ অথবা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

প্রধান উপসর্গ মলমূত্র ত্যাগের সময় ব্যথা এবং সেই ব্যথা অনেক সময় মারাত্মক ও অসহনীয়। ব্যথা মলত্যাগের পরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত প্রলম্বিত হতে পারে। মলের ওপর তাজা রক্ত দেখা যায় অথবা মল ত্যাগ করার পর টয়লেট পেপারে রক্ত দেখা যেতে পারে। পায়ুপথের শেষে ঘা অনুভব করা যায় এবং বেশ কিছুদিন থাকার পর ওই ত্বক ঘায়ের নিচে কিছুটা পর্যন্ত ফেটে গিয়ে চামড়ার ছোট একটা পিণ্ড সৃষ্টি হয় যার অলঙ্কারিক নাম ‘পাইলস প্রহরী’।

সচরাচর শক্ত অথবা বিশাল আকারের মলত্যাগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা, পায়ুপথকে যৌনসহবাসে ব্যবহার এবং সন্তান জন্মদানের সময় এনাল ফিশার সৃষ্টি করে। মাঝেমধ্যে ক্রোনস অথবা অন্ত্রের অন্যান্য প্রদাহ, পায়ুপথের ক্যান্সার, এইডস, সিফিলিস এবং টিবির কারণে এনাল ফিসারের সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেওয়া, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, অন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি এনাল ফিশার সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

জটিলতা হিসেবে এনাল ফিশার ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফিশার যদি ৮ সপ্তাহের বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে সেই ফিশারকে ক্রনিক ফিশার হিসেবে অবিহিত করা হয়ে থাকে। ক্রনিক ফিশার সাধারণত মাংসপেশি বা স্ফিংটার পর্যন্ত বর্ধিত হয়ে সার্জারি ছাড়া আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এনাল ফিশার একবার হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

পায়ুপথে এনাল ফিশারের অবস্থান ফিশার হওয়ার কারণ নির্দেশনা করতে পারে। পায়ুপথের সামনে অথবা পেছন দিকে না হয়ে ফিশারের পার্শ্বস্থানে অবস্থান সাধারণত ক্রোনস, টিবি, সিফিলিস ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে।

প্রতিকার
স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপন এনাল ফিশার প্রতিরোধ সাহায্য করে। নিয়মিত শাকসবজি, প্রচুর পানি পান এবং নিয়মিত হাঁটাচলা ব্যায়াম শুধু সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তাই করে না এনাল ফিশারসহ দেহের অন্য সব মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা পরিহার করে নিয়মিত ও সঠিক মলত্যাগ করা স্বাস্থ্যহানী প্রতিরোধে অত্যাবশ্যকীয়।

চিকিৎসা
চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস জেনে সাবধানে পায়ুপথটা পর্যবেক্ষণ করবেন। সাধারণত ফিশার সহজে অবলোকন করা যায়। যদি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিচালনায় উপকার না হয় তবে চিকিৎসক মেডিকেল চিকিৎসা শুরু করবেন। উপসর্গ ও ফিশার ভালো না হওয়ার কারণ হচ্ছে, যে মুহূর্তে পায়ুপথ ছিঁড়ে যায় সে মুহূর্তে মলদ্বারের মাংসপেশির (এনাল/মলদ্বার স্ফিংটার) সেই ব্যথাযুক্ত সংকোচন হয় এবং সেই সংকোচন ব্যথার সৃষ্টি করে এবং ফিশারের ঘা শুকাতে বাধার সৃষ্টি করে।
ওষুধ, স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ অথবা শল্য চিকিৎসা সবই নির্ভর করে ওই পেশিসংকচন প্রতিরোধ করার ব্যবস্থাপনার ওপর। পেশিসংকচন বন্ধ করে পেশির শিথিলতা নিশ্চিত করতে পারলে ফিশার ভালো হওয়া শুরু করে।

পেশির শিথিলতার জন্য ব্যবহার করা হয় নাইট্রাইট জাতীয় ওষুধ যা হৃৎপিণ্ডের ব্যথা এনজাইনা রোধে ব্যবহার করা হয়। ওই ওষুধ হৃৎপিণ্ডের পেশির মতো পায়ুপথের পেশিকে শিথিল করে ফিশার নিরাময়ে সাহায্য করে। বটুলিনিয়াম টক্সিন পায়ুপথের স্নায়ুকে অবশ করে মাংসপেশি শিথিল করে এবং সার্জারির মাধ্যমে ল্যাটারাল স্ফিংটারোটোমি ও একইভাবে স্থায়ীভাবে এনাল/মলদ্বার স্ফিংটার শিথিল করে, সে কারণে অপারেশন করলে ফিশার দ্রুত ও স্থায়ী আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়। ক্রনিক ফিসারের জন্য সার্জারিই গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড (স্বর্ণমান) হিসাবে বিবেচিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে