বিনামূল্যে অক্সিজেন পাওয়ায় কৃতজ্ঞ হবেন কি?

প্রকাশিত: মে ৯, ২০১৯; সময়: ৭:২৭ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মানুষ খাদ্য বা পানি ছাড়া অনেক দিন বাঁচতে পারে কিন্তু অক্সিজেন ছাড়া কয়েক মিনিটের বেশি বাঁচতে পারে না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, আজ থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে বাতাসে মুক্ত অক্সিজেন ছিল না। তারপর এককোষী প্রোকেরিয়টা, অণুজীবী প্রটোজোয়া ও উদ্ভিদগোত্র কার্বন-ডাই অক্সাইড ও পানি ইত্যাদি ভেঙ্গে মুক্ত অক্সিজেন সৃষ্টি করে বাতাসে প্রেরণ করতে থাকে। কতিপয় উদ্ভিদ নিজেরা চুনাপাথর, কয়লা, জৈব জ্বালানিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় বায়ুকে মুক্ত অক্সিজেন দান করে যেতে থাকে। এভাবে কয়েকশত কোটি বছর ধরে মুক্ত অক্সিজেনের মজুদ গড়ে তোলার কাজ চলতে থাকে। প্রথম দিকে মুক্ত অক্সিজেন স্থলভাগে ও পাথরে শোষিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সালোক সংশ্লেষণে সক্ষম উদ্ভিদের জন্ম হয়। এই উদ্ভিদগুলো বাতাস থেকে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। এই কার্বন-ডাই অক্সাইড পানির সঙ্গে মিশে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা তৈরি করার সময় মুক্ত অক্সিজেন ও পানি তৈরি হয় এবং মুক্ত অক্সিজেন বাতাসে জমা হতে থাকে। এভাবে আজ থেকে ৫০ লাখ বছর আগে বাতাসে মুক্ত অক্সিজেনের যথেষ্ট সম্ভার তৈরি হয়ে যায়।

করুণাময় সৃষ্টিকর্তা তার সুনিপুণ পরিকল্পনা ও কলাকুশলতায় প্লানকটনকে, অণুজীবী জীব ও উদ্ভিদকে অক্সিজেনের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত করেছেন। তারই অনুগ্রহের ফলে আমরা প্রতিদিন প্রায় ৩০,০০০ বার দম নিচ্ছি। এভাবে আমরা মিনিটে ২৫০ মিলি ও বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করছি। সৃষ্টিকর্তা প্রায় ৩৫০ কোটি বছর ধরে অক্সিজেন জমা করেছেন ও তারপর অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন বলেই আমরা বিনামূল্যে অক্সিজেন পাচ্ছি। আমরা কত অকৃতজ্ঞ যে একটি বারও বাতাসের অক্সিজেনের জন্য সৃষ্টিকর্তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই না। আসুন মহাপ্রভুর প্রতি শত কোটি বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

বায়ুমণ্ডলে বিরাজমান অক্সিজেন অণুর সমপরিমাণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি যিনি একাই জীব ও মানুষের পৃথিবীতে আসা উপলক্ষে শত কোটি বছর ধরে বাতাসের তাকে তাকে খাদ্যের চেয়ে দামি অক্সিজেন জমা করেছেন। দমে দমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি দয়াময় মহাজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার, যিনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উদ্ভিদকেও অনর্থক সৃষ্টি করেননি বরং আমাদের জন্য মহামূল্যবান অক্সিজেন তৈরির কাজে নিয়োজিত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে