রাজশাহীতে সকালের কুয়াশায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১; সময়: ১০:৩১ am |

তারেক মাহমুদ: কয়েক দিন থেকে রাজশাহীতে ভোরে কুয়াশা পড়ছে। এমন অবস্থা বেশি দিন চললে ফসল ও ফলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে চাষী ও কৃষিবিদরা। তবে ফাল্গুন মাসের শেষে কেন সকালে কুয়াশা পড়ছে তা নিয়ে চিন্তিত কৃষক। আর কৃষিবিদরা জানাচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন এ সমস্যা হয়তো বেশি দিন থাকবে না।

এদিকে কুয়াশা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকাও রয়েছে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা। এ আবহাওয়ার কারণে ধানের চারা হলদে, আমের মুকুলের ক্ষতি ও পানের বরজে পান হলদে হয়ে গোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানাচ্ছেন চাষীরা। তবে অল্প ক্ষতি হতে পারে! কিন্তু বড় কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানাচ্ছে কৃষিবিদরা।
জানা গেছে বেশি কুয়াশা পড়লে ফসল এতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না।

কুয়াশার কারণে আমের মুকুলে এনথ্রাক্স ও পাউডারি মিলভিউ রোগ দেখা যায় এবং পাউডারি মিলভিউ রোগে মুকুল পচে যায়। এছাড়া আম গাছের হোপার পোকার আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে কুলেও এনথ্রাক্স রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগে কুলের বহিরাবরণে কালো দাগের সৃষ্টি হবে এবং এক সময় কুল পচে যাবে।
কৃষিবিদরা জানাচ্ছেন যারা আমের মুকুলে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেছে তাদের কোনো সমস্যা হবে না। যারা প্রয়োগ করেনি তাদের সমস্যা হবে। তবে পানের বরজে সমস্যা হতে পারে।

মোহনপুর উপজেলার কৃষক এনারুল ইসলাম জানান, সকালের যে কুয়াশা পড়ছে এটা এর আগে তেমন ভাবে দেখা যায়নি। বেশি কুশায়া পড়লে পানের বরজে পানের বোটায় সমস্যা হবে। পান লাল হয়ে তা পড়ে যেতে পারে। আর আলু, গম ও পেঁয়াজের সমস্যা হতো কিন্তু সেই ফসল গুলো এখন শেষের পর্যায়ে তাই সমস্যা হবে না।

পুঠিয়া উপজেলার কৃষক মুক্তার আলী জানান, সকালের এই কুয়াশা আম ও ধানের চারা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। ধানের চারা লাল হয়ে যেতে পারে ও আমের মুকুল ঝরে পড়তে পারে। তবে এখনো ফসলে কোন সমস্যা হয়নি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক উম্মে সালমা জানান, সকালের যে কুয়াশা তা জলবায়ুগত কারণে হচ্ছে। তবে এমন কুয়াশা বেশি দিন হয়তো থাকবে না। আর ফসল ও ফলের ক্ষতির আশংকা কম। তবে বেশি দিন চললে সমস্যা হতে পারে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন জানান, গরমের সময় হঠাৎ এমন কুয়াশা সাধারণ হয় না। বেশি কুয়াশা হলে ফলের সমস্যা হয়। কিন্তু এই হালকা কুয়াশায় তেমন কোনো ক্ষতি হয় তো হবে না। বিশেষ করে আমের মুকুলে এই সময় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তা বেশিরভাগ মানুষ করেছে। তবে যারা করেনি তাদের গাছের ফলে সমস্যা হবে। তাই তাদের কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে