যৌন হয়রানির দায়ে রাবি শিক্ষককে বরখাস্তের সুপারিশ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১; সময়: ২:৪৪ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৪তম সিন্ডিকেট সভায় তা আমলে নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম এই তথ্য জানিয়েছেন।

তবে এর দায়ে সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর কী শাস্তি হতে পারে তা নিয়ে দুই ধরণের বক্তব্য পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, এর দায়ে তাকে ৬ বছর সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। তবে রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলছেন, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি।

অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা, বেতন-ভাতা, প্রমোশন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা এই ছয় বছরে তিনি নিষিদ্ধ থাকবেন।

তবে রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম জানান, এখনও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে এখন কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হবে। তার জবাব ও আত্মপক্ষ সমর্থনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপিত হয়। তাতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এখন তাকে দুই সপ্তাহের সময় দেয়া হবে। তারপর এর ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যে শাস্তিমূলক সুপারিশ সিন্ডিকেটে গৃহীত হয়েছে তা অফিশিয়ালি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে। তার একটা আত্মপক্ষের সুযোগ দেয়া হবে। তারপর তার শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এটা সিন্ডিকেটের নিয়মিত প্রোসেসের একটি অংশ।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ ও ২৭ জুন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থী উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর ২ জুলাই অভিযোগ আমলে নিয়ে ইনস্টিটিউটের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে ওই শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়।

  • 240
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে