সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমেছে বাংলাদেশে

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০; সময়: ১১:০৫ অপরাহ্ণ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং ঝুঁকিমুক্তির দিক থেকে ৬ ধাপ এগিয়ে ৩১তম অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমেছে বাংলাদেশে ) প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘২০১৯ সালের গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ নম্বরে। বর্তমান স্কোর ৫.২৮০। অর্থাৎ এ দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব বর্তমানে মাঝারি মাত্রার।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যডভোকেসি এন্ডরিসার্চ ফাউন্ডেশন (রিসার্ফ) আয়োজিত ‘উগ্রবাদ রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স (জিটিআই) হলো প্রতি বছর ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ডপিস (আইইপি) দ্বারা প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। সূচিটি ২০০০ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদের মূল বৈশ্বিক প্রবণতা এবং নিদর্শনগুলোর সারসংক্ষেপ সরবরাহ করে।

গত বছরের নভেম্বরে সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদসূচক-২০১৯ প্রকাশিত হয়। ২৩টি গুণগত ও পরিমাণগত নির্দেশকের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৬৩টি দেশেরপরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করেছে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯। এসব দেশের জনসংখ্যা বিশ্বেরমোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশেরঅবস্থান ছয় ধাপ উন্নতি হয়ে ৩১তম। স্কোর ৫.২০৮। অর্থাৎ এ দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবমাঝারি মাত্রার।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৫তম। এর আগের বছর বাংলাদেশছিল ২১তম। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবার বাংলাদেশের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। একটা ঘটনা ঘটার পর মিডিয়া প্রচার করার পর জনগণ এবং সরকারকে প্রভাবিত করে, যার ফলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাময় সম্ভব। এছাড়া মিডিয়ার সহায়তা নিয়েই আমরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করি। সন্ত্রাস দমনের পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশকে রোল মডেল মনে করে।’

সেমিনারে তিনি উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে সতর্কভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। জঙ্গিদের মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবে যাতে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেক সময় টেররিস্টরাও মিডিয়া কাভারেজ চায়। যদি তাদের মতো করে কাভারেজ না হয় তাহলে টেরোরিস্টরাও মিডিয়া এবং মিডিয়াকর্মীদের ওপর আঘাত করে। লাইভ টেলিকাস্টের সময় সচেতন থাকা দরকার। কারণ একটা ঘটনার সময় যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে থাকে এবং সেটা যদি লাইভ টেলিকাস্টের মাধ্যমে জঙ্গিরা জানতে পারে তাহলে তারা বেছে বেছে তার ওপরে হামলা করবে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনও ঘটনায় লাইভটেলিকাস্ট না করাটাই ভালো।’

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিটিটিসি প্রধান জানান, সন্ত্রাসী হামলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে আফগানিস্তান, যার স্কোর ৯.৬০৩। বিশ্বের প্রতি বিশটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে ১৬টিই হয় আফগানিস্তানে। এছাড়া ২য়, ৩য় ও ৪র্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে ইরাক, নাইজেরিয়া ও সিরিয়া। ৫ম অবস্থানে আছে পাকিস্তান। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে ভারতের অবস্থান এখন সপ্তম। এই অঞ্চলের মালদ্বীপ বাদে বাকি সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেপাল (বৈশ্বিক তালিকায় ৩৪তম), শ্রীলঙ্কা (৫৫তম) ও ভুটান (১৩৭তম)। এই অঞ্চলে আফগানিস্তান বাদে বাকি ছয় দেশ ২০১৮ সালে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতিতে উন্নতি করেছে। এই ছয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের।

উপরে