শ্রীলঙ্কায় একরাতে ৩৩ এমপির বাড়িতে আগুন

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২২; সময়: ১০:৫২ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় স্বাধীনতা-উত্তর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জেরে জনগণের তোপের মুখে পড়েছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী তো বটেই, জনরোষ থেকে ছাড় পাচ্ছেন না লঙ্কান মন্ত্রী, এমপি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও।

পথ আটকে তাদের ওপর যেমন শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তেমনি আগুন লাগানো হয়েছে অর্ধশতাধিক নেতার বাড়িগাড়িতে। এর মধ্যে একরাতেই বিক্ষোভের আগুনে পুড়েছে শ্রীলঙ্কার অন্তত ৩৩ সংসদ সদস্যের বাসভবন। খবর- ডেইলি মিরর, নিউজ কাটার, বিবিসি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত সোমবার রাতে শাসক দলীয় নেতাদের অন্তত ৩৩টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে অভিযোগে বেশ কিছু বেসরকারি সম্পত্তিতেও হামলা চালানো হয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে বেছে বেছে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বাড়ি-গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে ক্রুদ্ধ জনতা।

জানা গেছে, সদ্য পদত্যাগকারী লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের মেদামুলনায় অবস্থিত পৈতৃক বাড়ি এবং কুরুনেগালায় অবস্থিত বাসভবনে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। একই ঘটনা ঘটেছে ক্ষমতাসীন দল শ্রীলঙ্কা পোদুজানা পেরামুনার (এসএলপিপি) সংসদ সদস্য সনাথ নিশান্ত, জনক থিসা কুট্টিয়ারচ্চি, রোহিতা আবেগুনাবর্ধনে, আনুশা পাসকুয়াল, প্রসন্ন রানাতুঙ্গা, রমেশ পাথিরানা, শান্ত বান্দারা, কনাকা হেরাথ, অরুন্দিকা ফার্নান্দো, গামিনী লোকুগে, শেহান সেমাসিংহ, মহিপাল হেরাথ, প্রসন্ন রানাতুঙ্গা, ট্রেভিন ফার্নান্দো, বান্দুলা গুণবর্ধনে, রেণুকা পেরেরা, কেহেলিয়া রামবুকওয়েলা, কাঞ্চনা বিজেসেকারা, সিরিপাল গামলাথ, রোশন রানাসিংহ, নালাকা গোদাহেওয়া, ডুমিন্ডা দিসানায়েক ও আলী সাবরি রহিমের বাসভবনে।

এসএলপিপির আরেক এমপি জনস্টন ফার্নান্দোর মালিকানাধীন দুটি বাড়ি, একটি কারখানা ও একটি মদের দোকানে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। সরকার দলীয় এমপি নিমল লাঞ্জার বাড়ির পাশাপাশি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কুরুনেগালার মেয়র থুশারা সঞ্জিওয়া এবং মোরাতুয়ার মেয়র সমন লালের বাসভবনে। এর আগে, শ্রীলঙ্কায় এক এমপির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের আক্রমণে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরেকজন।

লঙ্কান পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কলম্বো উপকণ্ঠে সরকার দলীয় এমপি অমরাকীর্তি আথুকোরালার গাড়িতে হামলা চালালে তিনি দুজনকে গুলি করেন। এতে একজন মারা যান। এরপর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই সংসদ সদস্য। এ ছাড়া, সোমবার রাতে হোমগমার মহাকুম্বুরা এলাকায় সংসদ সদস্য কুমারা ওয়েল্গামার গাড়িতে হামলা চালায় একদল বিক্ষোভকারী। এসময় তিনি গাড়ির ভেতরেই ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই এমপি।

শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি হামলার শিকার হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারাও। এরই মধ্যে লঙ্কান পুলিশের সিনিয়র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (এসডিআইজি) দেশবন্ধু টেন্নাকুনকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কলম্বোর গঙ্গারাম এলাকার কাছে এসডিআইজি দেশবন্ধুর গাড়ি ঘিরে ধরে একদল বিক্ষোভকারী। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এসময় পরিস্থিতি সামলাতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনার একদিন আগেই এক এমপির পাশে দেখা গিয়েছিল দেশবন্ধুকে।

চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতার মধ্যে শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যরা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেজন্য মঙ্গলবার দেশটির প্রধান বিমানবন্দর অবরোধ করেছিল সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এদিন কাতুনায়েকে অবস্থিত বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বারে গাড়ি রেখে অবস্থান নেয় একদল তরুণ।

এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সহিংসতাকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয় রাজাপাকসে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে লঙ্কান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কাউকে সরকারি সম্পত্তি লুটপাট বা মানবজীবনের ক্ষতি করতে দেখলে নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষাপ্রধান ও সেনা কমান্ডার জেনারেল শাভেন্দ্র সিলভা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এ ধরনের কাজ করবে না। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের বরাতে এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতায় সোমবার থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আটজন, আহত হয়েছেন ২২০ জন। দেশটিতে কারফিউয়ের মেয়াদ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে