ট্রুডোর হ্যাটট্রিক জয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১; সময়: ১:৪৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয়লাভ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। অন্য দলগুলোর চেয়ে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি বেশি আসন পেয়েছে বলে এপির খবরে জানানো হয়েছে। কিন্তু ট্রুডো যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা চেয়েছিলেন তা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ট্রুডোর দল ৩৩৮টি আসনের মধ্যে ১৫৬টিতে জয়লাভ করেছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ওটেলো পেয়েছেন ১২২টি আসন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্ট্রিয়াল থেকে ট্রুডো জানান, আমি আপনাদের শুনতে পাই। যখন আপনাদের ভালোবাসার কোনো কিছু ফিরে পেতে চান, তখন মহামারি কিংবা নির্বাচন কোনো দুঃশ্চিন্তা হতে পারে না। আপনারা এ সরকারকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন, দেশ পরিচালনায় আপনারা সংসদকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

কানাডার ৪৪তম পার্লামেন্ট নির্বাচনে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। করোনা মহামারির এ সময়কে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ের দু’বছর আগেই শুরু হয়েছে আগাম ভোট। ভোটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টির সঙ্গে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি লড়াই করেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বিবিসিকে বলেছেন, করোনার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আগামী দিনের পদক্ষেপ কী হবে তা বেছে নিতে দেশের মানুষের জন্য এ ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টিকা সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, ৪৪তম সাধারণ নির্বাচনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নাও পেতে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। এককভাবে সরকার গঠনে কোনো দলকে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয় লাভ করতে হবে।

সাম্প্রতিককালে করোনা মহামারির সময়ে জনগণের যাবতীয় চাহিদা মেটানো থেকে শুরু করে সকলকে করোনা টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে, ঋণের বিপুল বোঝা চাপে ট্রুডো সরকারের ওপর। মহামারির প্রকোপ কমাতে টিকাকরণের ওপর জোর দেন ৫০ বছর বয়সী কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে দেশের রক্ষণশীল দলের নেতা এরিন ওটুলের সঙ্গে মতবিরোধ হয় ট্রুডোর। ওটুল রেপিড করোনা পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।

রোববার দীর্ঘ সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার পথ পরিভ্রমণ কর্মসূচির শেষ দিনে নায়াগ্রা ফলসের সামনে জড়ো হওয়া নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রুডো বলেন, মানুষকে ক্রমাগত ভ্যাকসিনের জোগান দিতে আমাদের দেশের স্বচ্ছ ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন। আমরা সেই কাজটাই করার চেষ্টা করে চলেছি। কিন্তু মাননীয় ওটুল এই কাজ করতে পারবেন না, এবং তিনি করবেনও না।

উন্নয়নের নিবেদিত প্রাণ এই নেতা, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়ের ট্রুডোর পুত্র। ২০১৫ সালে জাস্টিন কানাডার মসনদে বসেন। ২০১৯ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে