এখনো টিকা নিয়ে ভয় কাটেনি বুলগেরিয়ায়, করোনার তাণ্ডব

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১; সময়: ৩:৩৭ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ায় এখনো টিকা নিয়ে সংশয় কাটেনি। দেশটির বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে করোনার টিকা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় সংক্রমণ বেড়েছে।

করোনার ডেল্টার ধরনের কারণে মহামারি শুরুর পর থেকে ইউরোপের পূর্ব বাল্কেনে মৃত্যুহার সর্বোচ্চ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও বুলগেরিয়ায় টিকা নিতে জনগণের কোনো আগ্রহ নেই। ৭০ লাখ জনগোষ্ঠীর দেশটিতে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ। ইউরোপে যেখানে গড়ে ৬৯ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে বুলগেরিয়ার এই হার সত্যিই আশঙ্কাজনক।

বুলগেরিয়ায় ফাইজার/বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন ও জনসনের টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মহামারি শুরুর পর থেকে বুলগেরিয়ায় ১৯ হাজার মানুষ মারা গেছে। মৃত্যুহারের দিক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙেরির পরই বুলগেরিয়া রয়েছে।

গত সপ্তাহে দেশটিতে গড়ে ৪১ জন মারা গেছে। দেশটি টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে পড়ে ও নতুন করোনার ধরন ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার দেশটির সরকার কড়া নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনাগুলো হলো- রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ ও প্রতি টেবিলে ছয়জনের বেশি বসা যাবে না, নাইট ক্লাব, সিনেমা হল, থিয়েটার ও খেলার মাঠে ধারণক্ষমতার অর্ধেক ও তারও কম লোক থাকবে।

জনস্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ মারিয়া সারকোভা মনে করেন, বুলগেরিয়ার টিকাপ্রয়োগে নিম্নগতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের টিকা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য এই পরিস্থিতি দায়ী।

তিনি আরও বলেন, বুলগেরিয়ার মানুষদের এখনও ভালো স্বাস্থ্য জ্ঞান নেই। অনেক মানুষ এখনও কুসংস্কার ও গুজব বিশ্বাস করে। এ রকম দেশ ও জনগোষ্ঠীকে টিকা প্রদানে সর্বোত্তম নীতি গ্রহণ করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে