সুচ না ফুটিয়েই দেওয়া হবে করোনার টিকা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১; সময়: ৪:৩৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সুচ আতঙ্কের বুঝি এবার অবসান হতে যাচ্ছে। সুচ নয় বরং অন্য এক উপায়ে দেওয়া হবে করোনাভাইরাসের টিকা। ভারতে এমনই এক পদ্ধতি উদ্ধাবন করা হয়েছে সম্প্রতি। জাইডাস ক্যাডিলার জাইকোভ ডি টিকা প্রয়োগ করা হবে এই প্রক্রিয়ায়; এই টিকা দেওয়ার যন্ত্র হলো ফার্মাজেট।

সংবাদ প্রতিদিন বলছে, খুট করে একটা আওয়াজ। চোখের পলক পড়বে না। তার মধ্যেই মিশে যাবে টিকা। একেবারে ত্বকের তৃতীয় স্তরে। টেরই পাবেন না টিকাগ্রহীতা। এই টিকাই এবার প্রয়োগ করা হবে ভারতে; যা নিয়ে কৌতূহল চরমে!
ফার্মাজেট মেশিনই ব্যবহার করা হবে জাইকোভ ডি-এর জন্য। জাইডাস ক্যাডিলার টিকা জাইকোভ ডি পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে। এটাই প্রথম ডিএনএ টিকা যা ছাড়পত্র পেল দেশটিতে। দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি ১২ বছরের উপরের শিশুদের জন্যও এই টিকা ব্যবহার করা হবে।

কোভ্যাক্সিন বা কোভিশিল্ডের সঙ্গে এই টিকা বিস্তর পার্থক্য। ওই সব টিকার মতো দুই ডোজের নয়, জাইকোভ ডি তিন ডোজের। ২৮ দিনের ব্যবধানে তা দেওয়া হবে দুই হাতে। রাজ্যের ভ্যাকসিন ট্রায়াল ফ্যাসিলিটেটর স্নেহেন্দু কোনার জানিয়েছেন, পয়েন্ট এক মিলিলিটার করে দুই হাতেই দেওয়া হবে জাইকোভ ডি। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ২৮ দিন পর আবার তৃতীয় ডোজ।

দুইহাতে টিকা? তবে টেরও পাবেন না টিকাগ্রহীতা। সুচই নেই যেই ফার্মাজেট যন্ত্রে! সাঁড়াশির মতো দেখতে এ যন্ত্রে টিকার তরল ভরে নেওয়া হবে। এরপর হাতের চামড়ায় যন্ত্রের মুখ রেখে দু হাতলে চাপ মারলেই তীরবেগে তরল ঢুকে যাবে চামড়ার ভেতরে।

ভ্যাকসিন ট্রায়াল ফ্যাসিলিটেটর স্নেহেন্দু কোনার জানিয়েছেন, ত্বকের ডার্মিস স্তরে দেওয়া হবে এই টিকা। ফ্যাটি টিস্যু বা সাবকুটেনাস স্তরকে পেরিয়ে ঝড়ের গতিবেগে তা ঢুকে যাবে ইন্ট্রামাসকুলার অংশে। সুচ না থাকায় টেরই পাবেন না টিকা গ্রাহক। টিকা দেওয়ার পর এক মিনিট তুলো দিয়ে চেপে রাখতে হবে জায়গাটা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পয়েন্ট এক মিলিলিটার-এর বেশি ডোজ ভায়াল থেকে মেশিনে চলে আসলেও অসুবিধা নেই। প্রয়োগ করার সময় পয়েন্ট এক মিলিলিটারই মানুষের দেহে প্রবেশ করবে। বাকি অতিরিক্ত ডোজ ফার্মাজেট-এ ফিরে আসবে।

  • 119
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে