কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ইউরোপের অভিবাসী ঢল

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১; সময়: ১০:৩১ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ইউরোপের অভিবাসী ঢল। প্রায় প্রতিদিনই অবৈধভাবে ভূমধ্যসগার পাড়ি দিয়ে ইতালিতে আশ্রয় নিচ্ছে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী। বিপজ্জনক এ পথ বাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

শনিবার ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের উপকূল থেকে ১৯ জনকে উদ্ধার করে অপেন আর্মস নামের একটি উদ্ধারকারী সংস্থা। উদ্ধারকৃতদের অধিকাংশই আফ্রিকা অঞ্চলের বাসিন্দা। উদ্দেশ্য উন্নত জীবন। গন্তব্য অজানা। আছে মৃত্যুভয়। ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে বাঁচতে তবুও এই যাত্রা। অনিশ্চিত এই পথে প্রায় প্রতিদিনই সলিলসমাধি হচ্ছে অনেকের। এরপরও থেমে নেই উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা।

প্রায় প্রতিদিনই লিবিয়া এবং তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে শত শত অভিবাসী। রোববার লাম্পেদুসা দ্বীপের উপকূল থেকে ১৯ জনকে উদ্ধার করে বেসরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা ওপেন আর্মস।

ওপেন আর্মসের উদ্ধারকর্মী ডেভিড ল্যাডো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া বহু গুণ বেড়েছে। এই রুটে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। গত কয়েক বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অভিবাসী এই পথে ইউরোপ আসছে। গত কয়েক দিনে ৮ শতাধিক মানুষকে আমরা উদ্ধার করেছি। এতে প্রাণহানি বাড়ছে।

এর আগে, গত বুধবার ৭টি নৌকা থেকে প্রায় ২০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে ইতালির কোস্ট গার্ড। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, চলতি বছরে যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ১১শ’ অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে। এদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা অঞ্চলের বাসিন্দা।

এদিকে গত ৭ আগস্ট মরক্কো উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি সেবা সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ওই নৌকায় অন্তত ৩০ জন নারী, ৮ জন শিশু ও চারজন পুরুষ ছিলেন। তাদের সবার মৃত্যু হয়েছে। স্প্যানিশ কমিশন ফর রিফিউজিস (সিয়ার) নামের আরেকটি অভিবাসী সহায়তা সংস্থা এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, আমাদের এ ধরনের ট্রাজেডিতে অভ্যস্ত হওয়া উচিত হবে না।

অভিবাসী সহায়তা সংস্থা ওয়াকিং বর্ডার্সের প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা মালেনো গারজোন বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ৩০ জন নারী, আট শিশু এবং চারজন পুরুষ রয়েছে। মাত্র ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে।

  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে