তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রস্তুত এনআরএফ

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২১; সময়: ১০:৩৫ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল রেজিস্টেন্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান (এনআরএফ) বলছে, তাদের হাজার হাজার সদস্য তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

এনআরএফ এর বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রধান আলী নাজারি বলেন, তালেবানের সঙ্গে আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনা চালিতে যেতে চাই। কিন্তু আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা তাদের আগ্রাসন মেনে নেব না। খবর বিবিসির

আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকা তালেবান দখলে নিলেও পাঞ্জশির তাদের দখলে যায়নি। পাঞ্জশিরে প্রবেশ করতে গিয়ে গত কয়েক দিনে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তালেবানকে। পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ এখনো এনআরএফ এর হাতে। তালেবানের হাতে ক্ষমতা হারানো আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ পাঞ্জশিরে রয়েছেন।

এ দিকে তালেবানরা বলছে, তারা পাঞ্জশির উপত্যকা ঘিরে ফেলেছে। তাদের বাহিনী পাঞ্জশির প্রদেশের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং খুব সতর্ক অবস্থানে আছে। সেখানে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে, আফগানিস্তানের প্রয়াত জাতীয় বীর আহমাদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমাদ মাসুদ বলেছেন, উত্তর আফগানিস্তানের পার্বত্য উপত্যকায় তালেবানরা সশস্ত্র যোদ্ধার সংখ্যা বাড়ালেও তিনি পাঞ্জশির প্রদেশ কখনও কারো হাতে ছেড়ে দেবেন না।

সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে মাসুদ এই প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন, সমস্যা সমাধানে তিনি আলোচনার আশা করছেন। তবে তা ব্যর্থ হলে তিনি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ জানান, প্রতিরোধ বাহিনী সালাং হাইওয়ে অবরোধ করেছে। তবে, তালেবান বলছে হাইওয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান বাহিনী পাঞ্জশিরের কাছে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমরুল্লাহ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, বিরোধীরা তালেবানদের অবরোধে বাধা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী আন্দারাব উপত্যকার অ্যাম্বুশ জোনে আটকা পড়ার একদিন পরই তালেবান পাঞ্জশির প্রবেশদ্বারের কাছে তাদের বাহিনীকে জড়ো করে।… এ দিকে, তালেবান-বিরোধী বাহিনী সালং মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে।’

আহমাদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমাদ মাসুদ বলেন, ‘আমি আমার শক্ত ঘাঁটি পাঞ্জশির উপত্যকায় আছি। এখানকার মানুষ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং তারা প্রতিরোধ করতে চায়। তারা লড়াই করতে চায়। যেকোনো একক কর্তৃত্বকে তারা প্রতিহত করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন ‘এখানকার বাসিন্দারা আফগানিস্তানের জনগণের একটি ক্ষুদ্র অংশ এবং পাঞ্জশির পুরো আফগানিস্তানের একটি ক্ষুদ্রতম প্রদেশ। কিন্তু, এই মুহূর্তে আমরা দাঁড়িয়েছি পুরো দেশের জন্য, এর সার্বভৌমত্বের জন্য, শান্তির জন্য, মানুষের জন্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও সহনশীলতার জন্য।’

পাঞ্জশিরের মানুষ যুদ্ধ চায় না উল্লেখ্য করে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘পাঞ্জশিরে কোনো বড় কাজ বাকি নেই। হাতে গোনা কয়েকজন হয়তো যুদ্ধের ওপর জোর দেবে। পাঞ্জশিরের জনগণ, তাদের ওলামা ও বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রতিনিয়ত আমাদের বার্তা পাঠাচ্ছে যে তারা যুদ্ধ চায় না। এর মানে হলো জনগণ যুদ্ধ সমর্থন করে না। যদি কেউ ভুল করতে চায়, তাহলে তাদের বাধা দেওয়া হবে।’

বেশ কয়েকজন বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয় এবং আফগানিস্তানে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর উচিত নতুন যুদ্ধ শুরু করার পরিবর্তে আলোচনা করা।

তালেবান বর্তমানে ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ৩৩টির নিয়ন্ত্রণ করছে। বাঘলান প্রদেশে তালেবান ও বিরোধী বাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সংবাদও পাওয়া গেছে।

তালেবান মুখপাত্র টুইটারে জানান, তাদের বাহিনী দেহ সালাহ ও পুল-ই-হেসার জেলা দুটি স্থানীয় বাহিনীর কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে।

এর একদিন পর আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা বলেছেন, তালেবান ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনা হয়নি। আফগান জাতির আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করবে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে