মার্কিন সামরিক বিমানে জন্ম নেওয়া আফগান শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২১; সময়: ১২:৪০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কাবুল থেকে পালানোর পথে এক আফগানিস্তান নারী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী সামরিক বিমানে সন্তান প্রসব করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার মবিলিটি কমান্ড টুইটারে এক বার্তায় জানায়, ওই আফগান প্রসূতি তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষ ফ্লাইটে কাবুল থেকে কাতার হয়ে জার্মানির রামস্টিন বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। পথে তার প্রসব বেদনা শুরু হয়।

তার পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে পড়লে পাইলট বিমানের উচ্চতা কমিয়ে আনেন, যাতে উড়োজাহাজের কেবিনের ভেতরে বাতাসের চাপ বাড়িয়ে প্রসূতির জীবনরক্ষা সম্ভব হয়। বিমানটি অবতরণের পর রামস্টিন বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক চিকিৎসাকর্মীরা ওই নারীকে সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন বলে এয়ার মবিলিটি কমান্ড জানায়।

এর পর মা ও নবজাত কন্যাশিশুকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুজনেই সুস্থ রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান। তবে আকাশে জন্ম নেওয়া ওই শিশুর জাতীয়তা কী হবে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন, শিশুটি যেহেতু মার্কিন পতাকাবাহী এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন করা সামরিক বিমানে জন্মগ্রহণ করেছে, সে জন্য তার মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত।

আরেক পক্ষ বলছেন, যেহেতু বিমানটি জার্মানিতে অবতরণের পর শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাই জার্মান নাগরিকত্বই তার প্রাপ্য। এ বিষয়ে এভিয়েশনবিষয়ক এক পত্রিকা লিখেছে— বিমানপথে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্বের বিষয়টি একটু জটিল। স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী, শিশুর নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে তার মায়ের এবং বাবার নাগরিকত্ব অনুযায়ী, যাকে বলে ‘জুস স্যাংগুইনিস’ (রক্তের অধিকার)।

কিন্তু কোনো কোনো দেশ তার সীমানার মধ্যে শিশুর জন্ম হলে তাকে নাগরিকত্ব দেয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ম আছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যানুয়াল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে যে কোনো স্থান; যেমন— দূতাবাস, কনস্যুলেট, সামরিক বিমান কিংবা ঘাঁটি ইত্যাদিতে জন্ম নিলেও কোনো শিশু মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী হবে না, যদি না তার পিতামাতার অন্তত একজনের মার্কিন নাগরিকত্ব থাকে।

তবে এই ম্যানুয়াল অনুযায়ী, আমেরিকার সীমান্তের ভেতরে ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে কোনো শিশুর জন্ম হলে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। একে বলে ‘জুস সলি’ বা ভূমির অধিকার। কিন্তু অন্য দেশে, যেমন জার্মানিতে, এই অধিকার থাকে না। সে দেশের নাগরিকত্ব পেতে হলে পিতামাতার অন্তত একজনের জার্মান নাগরিকত্ব থাকতে হবে এবং অন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আর শরণার্থী শিশুর নাগরিকত্বের বিষয়টিতেও একেক দেশে একেক আইন ব্যবহার করা হয়।

  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে