চীনে ফের ভয়াবহ করোনা

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২১; সময়: ১১:৩১ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চীনের নানজিং শহরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তা আরও পাঁচটি প্রদেশসহ বেইজিংয়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের পর নতুন এই মহামারিকে সবচেয়ে ব্যাপক বলে আখ্যায়িত করেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। গত ২০ জুলাই শহরটির ব্যস্ততম বিমানবন্দরে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরে তা আরও প্রায় ২০০ জনের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে।

এতে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত নানজিং বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এমন খবর দিয়েছে। এই মহামারির কারণে শহর কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে। শহরটিতে ইতিমধ্যে ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া বলছে, শহরের ৯৩ লাখ বাসিন্দা ও সেখানে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।

সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, করোনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয়রা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার সময় লোকজনকে মাস্ক পরতে, এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে এবং কথা বলা বন্ধ রাখতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন এই মহামারির পেছনে অতিসংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে দায়ী করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের ব্যস্ততার কারণে মহামারি এত বেশি ছড়িয়েছে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা।

নানজিংয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডিং জি সাংবাদিকদের বলেন, গত ১০ জুলাই শহরে রাশিয়া থেকে আসা একটি ফ্লাইটে কাজ করা একজন পরিচ্ছন্নকর্মীর সঙ্গে এই মহামারি বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ তিনি স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে চলেননি বলে এই সংক্রমণ হয়েছে।

এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা। সেখানে তদারকির অভাব ও অপেশাদার ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে স্থায়ী কমিউনিস্ট পার্টি। করোনা পরীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে, ভাইরাস এখন রাজধানী বেইজিং এবং চেংডুসহ অন্তত ১৩টি নগরীতে ছড়িয়েছে।

সরকারি ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, ভাইরাসের বিস্তার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেই মনে করছেন তারা। নানজিংয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোভিড শনাক্ত হওয়াদের ৭ জনের অবস্থা গুরুতর।

২০১৯ সালের শেষ দিনে উহানে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটার পর তা বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়ে চীন এর রাশ টেনে ধরতে অনেকটা সফলও হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে সরকারি হিসাবে শনাক্তের সংখ্যা কম রয়েছে। মাঝে মাঝে বাড়লেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ চীনা টিকার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সম্প্রতি তারা অন্য টিকা ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে।

  • 544
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে