কিউবায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২১; সময়: ১:৩২ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সরকারবিরোধী বিরল বিক্ষোভের পরদিন সোমবার কিউবার রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক শান্ত থাকতে দেখা গেছে। এদিকে কিউবায় সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভের জেরে অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিবিসি অনলাইন ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সময় গত রোববার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কিউবা। দেশটিতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলের পদত্যাগ দাবি করেন। কয়েক দশকের মধ্যে এটাই ছিল কিউবায় সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কিউবায় রোববারের উত্তাল পরিস্থিতি সোমবার দেখা যায়নি। সোমবার দেশটির রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক শান্ত ও স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে সড়কে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিরোধী সূত্রের ভাষ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন জানায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বেশ কজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ঠিক কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি বিবিসি। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের মারধর ও পিপার স্প্রে করার পাশাপাশি তাঁদের গ্রেপ্তার করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

বিবিসি জানায়, পুলিশের গাড়ি উল্টে ফেলতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের। রাষ্ট্রীয় কিছু দোকানে লুটপাটও হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিউবাজুড়ে ইন্টারনেট ‘ব্লকআউট’ চলার খবর পাওয়া গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গ্রেপ্তারের কাজে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করেছেন সাদাপোশাকে থাকা কর্মকর্তারা। কিউবার নির্বাসিত একটি অধিকার গোষ্ঠীর দাবি, বিক্ষোভের জেরে অন্তত ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিক্ষোভকারী, অ্যাকটিভিস্ট, স্বাধীন সাংবাদিক রয়েছেন। গ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে কিউবা সরকারের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উল্লেখ করেছে।

বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। তাঁর দেশে এই অস্থিরতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেন। কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিকভাবে দমবন্ধের নীতি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার মতাদর্শিক বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটির বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ আর অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে কিউবার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বিশেষত, খাবার ও জ্বালানির মতো নিত্যপণ্যের ঘাটতি, নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়া এবং মহামারির লাগাম টানতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ দেশটির জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যার বহিঃপ্রকাশ রোববারের বিক্ষোভ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে