ইসরায়েলি থিম পার্ক গড়তে ভাঙছে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২১; সময়: ১১:১৭ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের বিক্ষোভ। শুক্রবার পূর্ব জেরুজালেমে শেখ জাররাহর প্রবেশপথে ইসরায়েলি চেক পয়েন্টে।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান অঞ্চলে প্রায় ১২০ ফিলিস্তিনি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলে ধর্মীয় থিম পার্ক তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বাসিন্দাকে হারাতে হচ্ছে তাদের বসতি।  সোমবার জেরুজালেমের মিউনিসিপ্যালিটি পরিদর্শক ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এ জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২১ দিন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৩টি ভবন ও স্থাপনা সরিয়ে ফেলতে হবে। এর আগে ইসরায়েলের এক আদালতের রায়ে বলা হয়, এসব ভবন অনুমতি ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে সমাজকর্মী অ্যাঞ্জেলা গডফ্রে-গোল্ডস্টেইন বলেন, যেসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেম মিউনিসিপ্যালিটির পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের শহরের পূর্ব প্রান্তে বসতি স্থাপনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয় না, বরং ওই অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোর করে বহিষ্কার করছে তারা।

জেরুজালেমের ডেপুটি মেয়র আরিয়া কিং ও ফ্লেয়ুর হাসান-নাহুম সম্প্রতি বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি অবকাঠামো নির্মাণ সীমিত করা। তিন প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বাস করছেন ফাখরি আবু দিয়াব। তাঁদের পরিবারে ৩০ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁর বাড়ি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে দেওয়া হবে।

সিলওয়ানের ভূমি রক্ষা কমিটির মুখপাত্র আবু দিয়াব বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি হওয়ার আগে থেকে আমার পরিবার এখানে বসবাস করছে। ১৯৮৮ সালে আমি যখন বিয়ে করি, তখন তিন বছর চেষ্টা করে ভবন বড় করার অনুমতি চেয়েছিলাম। আইনজীবী, প্রকৌশলীসহ অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সেখান ইহুদি থিম পার্ক করা হবে।

ইসরায়েলি গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে গত শুক্রবার আরও এক ফিলিস্তিনি কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর মোহাম্মদ হামায়েলকে হত্যা করেন ইসরায়েলি সেনারা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে