করোনায় এতিম হচ্ছে ভারতীয় শিশুরা

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২১; সময়: ১১:৩৫ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এতিমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে ভারতে। ফলে সমাজে এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

৫ বছরের শিশু প্রথম তার ১০ মাস বয়সি ভাই আয়ুশকে নিয়ে বাবা-মায়ের জন্য পথ চেয়ে বসে আছে। খবর বিবিসির।

কিন্তু তাদের কেউ-ই আর আসে না, শিশুটি জানেই না করোনা নামের প্রাণঘাতী ভাইরাস তাদের এতিম করে গেছে। গত এপ্রিলে তারা বাবাকে হারায়। তার কিছু দিন পর মারা যান তাদের মা-ও।

বাবা-মায়ের জন্য শিশুরা অস্থির হয়ে পড়েছে। তাদের আত্মীয়রা শিশুদের এখন সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন, বাবা-মা কাজের জন্য বাইরে গেছেন। শিগগিরই কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসবেন।

প্রথম এবং তার ছোট ভাই এখন তার দাদির কাছে আছে। কিন্তু তিনি-ইবা আর কত দিন তাদের দেখভাল করতে পারবেন।

এতিমদের নিয়ে কাজ করা দিল্লিভিত্তিক একটি এনজিও এ শিশুদের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ভারতে তাদের মতো অসংখ্য শিশু এখন এতিম হয়ে নিদারুণ কষ্টে আছে।

১২ বছরের সোনিয়া সাত বছরের অমিত গত বছরের জুনে করোনায় তাদের বাবাকে হারায়। এ বছরের এপ্রিলে করোনা কেড়ে নেয় তাদের মাকেও।

তারাও এখন বৃদ্ধা দাদির কাছে বড় হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের দাদি। এ বৃদ্ধা এখন মনেপ্রাণে চাচ্ছেন, যাতে কেউ তার এ এতিম নাতি-নাতনিকে দত্তক নিয়ে যান।

অন্তত খেয়ে-পরে যেন শিশু দুটি বাঁচতে পারে। ভারতজুড়েই এখন এ চিত্র।

ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এক টুইটবার্তায় বলেছেন, এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ভারতে ৫৭৭টি শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদিও। এতিম শিশুদের জন্য তহবিল গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিসদ।

করোনার কারণে এতিমদের দত্তক নেওয়ার হারও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ২০১৯ সালে ভারত থেকে ৬৬ হাজার শিশুকে দত্তক নেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু ২০২০ সালে এ সংখা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩৫১ জনে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে