জেগে উঠেছে ফিলিস্তিনিরা, ইসরাইলবিরোধী সংঘর্ষে নতুন মাত্রা

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২১; সময়: ৪:২৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিনের গাজায় হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। বুধবারও পশ্চিমতীরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর সহিংসতার বিরুদ্ধে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। ১৯৪৮ সালে অবৈধভাবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগের সীমানায় ইহুদিবাদীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের সংঘর্ষ চলছে।

এরই মধ্যে লাখো ফিলিস্তিনি ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে। সব ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলছে দখলদার ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে।

ঐক্যের নিদর্শন হিসাবে জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী পুরো এলাকায় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন যোগ দিয়েছে ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের অধিবাসীরা।

তেমনই যোগ দিয়েছে ইসরাইলে বসবাসকারী লাখো ফিলিস্তিনি। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ইসরাইলের নির্বিচার বিমান হামলা ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ফাতাহ। সংহতি ও সহযোগিতা নিয়ে এসেছে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ফিলিস্তিনিরা।

মিডিল ইস্ট আই’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় বিমান হামলার এক সপ্তাহের মাথায় রোববার ইসরাইলের অভ্যন্তরে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়কারী সংগঠন দ্য আরব ফলো-আপ কমিটি এই ধর্মঘটের ডাক দেয়।

এই ধর্মঘটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কারামেহ স্ট্রাইক’ তথা মর্যাদার ধর্মঘট। ইসরাইলে বসবাসকারী ১৬ লাখসহ অন্তত ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এতে অংশ নিচ্ছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বিরামহীন বোমা হামলার প্রতিবাদে অধিকৃত গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরাইলি শহরগুলোতে এই ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরো অঞ্চলের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাজা পরিচালনাকারী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রধান দল ফাতাহ উভয় গ্রুপই এই ধর্মঘট সমর্থন করেছে। ফিলিস্তিনিরা সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রয়েছে।

ওয়েস্ট ব্যাংক বা পশ্চিম তীর ও গাজা বর্তমান ফিলিস্তিনের প্রধান দুটি শহর। ওয়েস্ট ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে ফাতাহ মুভমেন্ট যার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আর যে গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে হামাস।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এটা নজিরবিহীন। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম দল-মত-নির্বিশেষে সব ফিলিস্তিনি এ ধরনের সাধারণ ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে।’ কোনো কোনো বিশ্লেষক একে তৃতীয় ইন্তিফাদা তথা অভ্যুত্থান হিসাবে দেখছে।

এদিকে গত ৯ দিন ধরে গাজায় ইসরাইলি নিধনযজ্ঞে নিহত বেড়ে ২২০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬৩ জন শিশু রয়েছে। রয়েছেন বাগদত্তা তরুণীসহ অনেক নারীও।

ইসরাইলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রকেট হামলায় ১২ ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।

এ ছাড়া গত ৯ দিনের সংঘাতে এ পর্যন্ত গাজায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৪৮ হাজার থেকে ৫২ হাজার মানুষ। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান হামলা ও আর্টিলারি গোলার আঘাত থেকে বাঁচতে তারা বাড়িঘর ছেড়ে জাতিসংঘ পরিচালিত ৫৮ টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে