মিয়ানমারে চীনের কল-কারখানা পুড়িয়ে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২১; সময়: ১০:৪৭ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মিয়ানমারে চীনবিরোধী ঘৃণা-বিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় সন্দেহ-অবিশ্বাস আরও জোরালো হচ্ছে। অভ্যুত্থানের নেপথ্যে বেইজিংয়ের হাত রয়েছে বলেও মনে করছে দেশটির জনগণ। মিয়ানমারে চীনবিরোধী ঘৃণা-বিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় সন্দেহ-অবিশ্বাস আরও জোরালো হচ্ছে। অভ্যুত্থানের নেপথ্যে বেইজিংয়ের হাত রয়েছে বলেও মনে করছে দেশটির জনগণ।

ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে জনমনে একটা ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই অভ্যুত্থানবিরোধী হাজার হাজার মানুষকে ইয়াঙ্গুনে চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে। তবে এবার বিক্ষোভের সঙ্গে ‘সরাসরি অ্যাকশন’ নিচ্ছে জনতা। মিয়ানমারের শহরে শহরে চীনা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা পুড়িয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক ডজন কারখানায় আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের এমন কর্মকাণ্ডে নড়েচড়ে বসেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান ও কারখানার সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিজে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অগ্নিসংযোগকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। চীনের বিদেশনীতিতে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানকে অভ্যন্তরীণ সংকট আকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদ অভ্যুত্থানবিরোধী বিবৃতি দিতে গেলে সেখানেও আপত্তি তুলেছে বেইজিং। ভারত, রাশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মিলে তারা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের অনেকেই তাই মনে করেন, ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানে চীনের সমর্থন রয়েছে। দ্য ইরাবতী জানায়, বাণিজ্যিক রাজধানী ও ইয়াঙ্গুনে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত বেশ কয়েকটি কারখানা সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসাবে পরিচিত ইয়াঙ্গুনের হ্লাইংথায়ায় রোববার চীনা অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি কারখানায় অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। একই এলাকায় সোমবার সকালেও আগুন দেওয়া আরও কয়েকটি কারখানায়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেও উঠে এসেছে চীনা কল-কারখানায় অগ্নিসংযোগের চিত্র।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, বিক্ষোভকারীদেরকে অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত রাখতে এদিন মুহুর্মুহু গুলি ছোড়ে দাঙ্গা পুলিশ। এতে দফায় দফায় বহু বিক্ষোভকারী হতাহত হয়। এসব ঘটনার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। ইয়াঙ্গুনে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চীনের অনেক কর্মী আহত হয়েছেন এবং কারখানার ভেতরে আটকা পড়েছেন। নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

এক উপসম্পাদকীয়তে একই আহ্বান জানায় বেইজিংয়ে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসাবে পরিচিত গ্লোবাল টাইমস। বলা হয়, চীনা অর্থায়নে পরিচালিত ৩২টি কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩.৭ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের সম্পদ নষ্ট ও দুই চীনা নাগরিক আহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিও জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমটি। চীনা কর্তৃপক্ষের আহ্বানের পরই সোমবার ইয়াঙ্গুনের দুটি শিল্পাঞ্চলে সামরিক আইন জারি করা হয়। রয়টার্স

জানায়, ইয়াঙ্গুনের হ্লাইংথায়াসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও মান্দালয় শহরে কয়েকটি এলাকায় মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে।

অভ্যুত্থানের শুরু থেকে চীন একে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে পাশ কাটিয়ে আসছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারবিরোধী একটি নিন্দা প্রস্তাবও আটকে দেয় দেশটি। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ পুরো পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে।

এমন অবস্থায় মিয়ানমারে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পাশাপাশি চীনবিরোধী সমাবেশও চলছে। এর অংশ হিসাবে সোমবারও দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ হয়েছে।

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত’ ‘ন্যায়বিচার অন্ধ হয়ে গেছে, অভ্যুত্থান করা অপরাধ, আর পেছনে রয়েছে চীন’ ‘চীন আমাদের গণতন্ত্র ভেঙে দিয়েছে’ ‘মিয়ানমারের সেনা শাসন চীনে দ্বারা তৈরি’ ‘চীন মিয়ানমারের ক্ষতি করছে’ ‘মিয়ানমারকে সমর্থন কর, স্বৈরশাসনকে নয়’।

  • 62
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে