ফের রাজপথে মিয়ানমারের আন্দোলনকারীরা

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২১; সময়: ৮:৪৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে বুধবার নিহত হয়েছে ৩৮ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়েছিল আন্দোলনকারীদের দিকে। ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দী নেতাদের মুক্তির দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে।

মান্দালায় শহরে আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ১৯ বছরের তরুণীর এঞ্জেলের প্রতি বুধবার শ্রদ্ধা জানিয়েছে শত শত আন্দোলনকারী। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুহূর্তেও এঞ্জেল টিশার্টে লেখা ছিল- “সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এঞ্জেলের উন্মুক্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন সময়ে শোকার্ত মানুষেরা বিপ্লবী গান গায় ও অভ্যুত্থান বিরোধী স্লোগান দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বন্যা বয়ে গেছে, অনেকে তাকে অভিহিত করেছে নিজেদের ‘বীর’ বলে।

বিক্ষোভে এঞ্জেলের সাথে থাকা এক ব্যক্তি বলেছে যে এঞ্জেল একটি পানির পাইপ খুলে দিয়েছিল যাতে বিক্ষোভকারীরা তাদের চোখ থেকে কাঁদানে গ্যাস ধুতে পারে। পুলিশ গুলি চালানোর সময়েও এঞ্জেল তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, “গুলিবিদ্ধ হবার আগে এঞ্জেল আমাকে বলছিল “বসে যান! নয়তো গায় গুলি লাগবে, এঞ্জেল অন্যদের বিষয়ে ভাবতো এবং চেষ্টা করতো বিপদ থেকে রক্ষা করার।”

১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে মিয়ানমারে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবী জানিয়েছে সামরিক শাসনের অবসানের এবং অং সান সু চি সহ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের মুক্তির ।

ডজন খানেক দেশ মিয়ানমারে সহিংসতার নিন্দা জানানোর পরেও অভ্যুত্থানের নেতারা তা অনেকাংশে উপেক্ষা করেছে। বুধবারের মৃত্যুতে প্রতিবাদে বাধাহীন ভাবে বিক্ষোভকারীরা দেশটির দুটি বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এবং মান্দালয়ের রাস্তায় নেমে আসে, একই সাথে নেমে আসে অন্যান্য শহরের পথেও।

সংবাদ মাধ্যম মায়ানমার নাও অনুসারে, হাজার হাজার মানুষ মাইঙ্গিয়ান শহরে বিক্ষোভে নেমে এসেছে, যে শহরে আগের দিনই একজন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রয়টার্সের সংবাদ অনুসারে, ইয়াঙ্গুন এবং মনিওয়া শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

একজন বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে জানিয়েছে, “তারা আমাদের উপর জলকামান দিয়ে স্প্রে করেনি, ছত্রভঙ্গ করার জন্য পূর্বাভাস দেয়নি, তারা শুধু তাদের বন্দুক দিয়ে গুলি চালিয়েছে।”

আরেকজন বিবিসিকে বলেছে যে তার বাড়ির কাছে বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছে। “নিরাপত্তা বাহিনী কোন সতর্কবার্তা দেয়নি… তারা প্রথমেই গুলি করতে শুরু করেছে। তারা রাবার বুলেটও ব্যবহার করেছে কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করার জন্য ব্যবহার করেছে আসল বুলেট।”

মিয়ানমারে জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টিন শ্রানার বুরজেনার বলেছেন, একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে পুলিশ একজন নিরস্ত্র স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসককে মারধর করছে।
তিনি বলেন যে অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে- যদিও অন্যান্য প্রতিবেদনে এই সংখ্যা আরো বেশি বলে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র- বিবিসি

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে