ভোটের মাঠে হেলিকপ্টার লড়াই

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১; সময়: ১০:২৯ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভোটের প্রচারে ভারতের হেলিকপ্টার সংস্কৃতি এবার পুরোদস্তুর প্রভাব ফেলবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিই প্রথম এই ‘হেলিকপ্টার চর্চা’ আনেন পশ্চিমবঙ্গে।
ভোটের প্রচারে ভারতের হেলিকপ্টার সংস্কৃতি এবার পুরোদস্তুর প্রভাব ফেলবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিই প্রথম এই ‘হেলিকপ্টার চর্চা’ আনেন পশ্চিমবঙ্গে।

দেখাদেখি গত লোকসভা নির্বাচনে হেলিকপ্টার, চার্টাড বিমান দুই-ই ব্যবহার করেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। আর এবার খোদ পশ্চিমবঙ্গেই নির্বাচন। ২৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। ৮ দফায় টানা মাসজুড়ে চলবে ভোটগ্রহণ। এবার শুরু হবে প্রচারযুদ্ধ। কোন দল কত বেশি সভা করতে পারে দৈনিক। কারা কত চমক দেখাতে পারে প্রচারে। শুক্রবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের এ ঘোষণার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের দুই ‘শিরোমণিই’।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় দল বিজেপি। এতদিন কে কী করেছে সে হিসাব বাদ। সামনের এই হাতেগোনা দিনগুলোতে একে অপরকে টপকানোর সব থেকে বড় অস্ত্র হলো ‘প্রচারণা’। ওয়ান ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে।

বিজেপির প্রচারের জন্য তিনটি হেলিকপ্টার : নীল বাড়ি (নবান্ন) দখলের লক্ষ্যে বিজেপি আরও বড় মাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। দলের শীর্ষমহলের খবর বিজেপির প্রচারের জন্য তিনটি হেলিকপ্টার আসতে চলেছে। যার মধ্যে একটি হেলিকপ্টার আসছে শুধু বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জন্য।

ছুটে-দৌড়ে রাজ্যের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে সভা করার জন্যই এই এলাহি আয়োজন কেন্দ্রের শাসক দলের। শুধু তাই নয়, বিজেপি সূত্রে খবর, নির্বাচনী প্রচারণায় এবার গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনঘন আগমন আরও বাড়বে রাজ্যে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা থাকবে। যাতে সেসব সভায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হয় সেদিকে তাকিয়েই এই হেলিকপ্টারগুলো আসছে বলে জানা গেছে।

প্রচারের জোর আরও বাড়বে : কোনো অংশেই তৃণমূলকে ছাড় নয়! ইতোমধ্যে কপ্টার ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। অভিষেক ব্যানার্জি থেকে মমতা ব্যানার্জি সভার মাঝখানে নামছেন কপ্টার থেকে। সেখানে দাঁড়িয়ে এখনো বিজেপি নেতারা গাড়িতে করেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন।

এ চিত্র এবার পালটে যাবে। বিশেষ করে দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীসহ প্রথমসারির নেতাদের ভোট প্রচারের চাপ বাড়বে। এই অবস্থায় কপ্টার প্রয়োজন। আর সে কারণে দ্রুত তিনটি কপ্টার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সভার মাঝখানে কপ্টার থেকে নামছেন নেতা! : ভারতে ভোটের প্রচারে কপ্টার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতি-কপ্টারের ব্যবহার সবখানেই। একেবারে সভাস্থলের পাশে করা হয় হেলিপ্যাড। আকাশ থেকে নেমে আসছেন তাদের প্রিয় নেতা! এটা একটা প্রভাব পড়ে জনমানসে। আর সেটাই কাজে লাগান নেতারা। তবে বিধানসভা ভোটে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের জন্য কপ্টার সম্ভবত প্রথম বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভা নির্বাচনের আগে ‘খেলা হবে’ বলে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। এর পর থেকেই ‘খেলা হবে’ সংলাপটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গে।

‘খেলা হবে’ শিরোনামে তৈরি হয়েছে গানও, যা বাজছে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারণায়। এবার টি-শার্টের গায়ে জায়গা করে নিয়েছে ‘খেলা হবে’। বিক্রিও হচ্ছে দেদার।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে শাসক থেকে বিরোধী সবার মুখে মুখে এখন ‘খেলা হবে’। রাজনীতির ময়দান থেকে অরাজনৈতিক মানুষজনও ‘খেলা হবে’তে মজেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় দেদার বিক্রি হচ্ছে ‘খেলা হবে’ লেখা টি-শার্ট। শীত বিদায় জানিয়ে গরম চলে আসায় চাহিদা বাড়ছে টি-শার্টের। আর এর ওপর ‘খেলা হবে’ টি-শার্ট যেন ‘হট কেকে’ পরিণত হয়েছে।

কাটোয়া শহরের পানুহাটের পোশাক ব্যবসায়ী রিপন দেবনাথ বলেন, “বাজারে যখন যেটা বেশি চালু থাকে, সেটাকে ডিজাইনের মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করি। যাতে যুবসমাজ আকর্ষিত হয়। তাই এবার ‘খেলা হবে’ স্লোগান বাছা হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ‘খেলা হবে’ সবচেয়ে হিট শব্দবন্ধ।”

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে