এবার গণঅনশনে ভারতের কৃষকরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২১; সময়: ১১:৩০ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চলমান কৃষক আন্দোলন চাঙা করতে এবার গণঅনশনে শুরু করেছেন ভারতের কৃষকরা। ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলন আরও জোরদার করতে ভারতীয় কৃষকরা শনিবার একদিনের গণঅনশন করেছেন। চলমান কৃষক আন্দোলন চাঙা করতে এবার গণঅনশনে শুরু করেছেন ভারতের কৃষকরা। ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলন আরও জোরদার করতে ভারতীয় কৃষকরা শনিবার একদিনের গণঅনশন করেছেন।

এদিকে আন্দোলনের বেগ কমিয়ে দিতে দিল্লির আশপাশের সীমান্ত এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষি সংস্কার আইন বাতিলের দাবিতে দুমাস ধরে ভারতের লাখো কৃষক সড়কে আন্দোলন করছেন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকরা ট্রাক্টর মিছিল নিয়ে রাজধানী দিল্লি ঢুকে পড়েন। পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাতে এক কৃষকের মৃত্যুসহ আহত হন শতাধিক।

সংঘর্ষে চারশ’ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি দিল্লি পুলিশের। ওই ঘটনায় পুলিশ দুই ডজন মামলা করেছে। দীর্ঘদিন চলা কৃষক আন্দোলনের সমাপ্তি চায় নরেন্দ্র মোদির কট্টর বিজেপি সরকার। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির জন্য।

কারণ কৃষকের প্রতি ভারতীয়দের পাশাপাশি বিদেশিরাও সোচ্চার। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কৃষকের ন্যায্য দাবির পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। ভারতের সুপ্রিমকোর্টও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার নির্দেশনা দিয়ে আইনটি স্থগিত করেছেন।

এ অবস্থায় শনিবার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর ৭৩তম মৃত্যু দিবসে তার অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে শনিবার অনশন করেন কৃষক নেতারা।

সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চা গ্রুপের নেতা দর্শন পাল বলেন, ‘কৃষকদের এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং শান্তিপূর্ণ থাকবে। সত্য এবং অহিংসার মাহাত্ম ছড়িয়ে দিতেই আমরা ৩০ জানুয়ারি এ গণঅনশনের আয়োজন করেছি।’

অনশন কর্মসূচি বাতিল করলেন আন্না হাজারে : জীবনের শেষ অনশনের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত অনশনে বসছেন না ভারতের সামাজিক আন্দোলনকর্মী নেতা আন্না হাজারে। শনিবার তার অনশনে বসার কথা ছিল। শুক্রবার সে কথা নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি।

এরপরই মুম্বাইয়ের মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে দেখা করে সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন ৮৪ বছর বয়সি আন্না।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছি। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কোনো অপরাধ নয়। বিগত তিন বছর ধরে কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হয়েছি। ফসলের সঠিক দাম তারা পান না বলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০% বাড়িয়ে দেবে। সেই চিঠি আমার কাছে আছে। আমি এতদিন কৃষকদের যে সমস্যাগুলো নিয়ে সোচ্চার হয়েছি, সেগুলোর সমাধান রয়েছে কৃষি আইনে। তাই এই অনশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে