যুক্তরাষ্ট্রেও নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস শনাক্ত

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২০; সময়: ১০:৪৯ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া অধিক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসটি যুক্তরাষ্ট্রেও শনাক্ত হয়েছে। কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একজন ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটিতে শনাক্ত হওয়া ২০ বছরের ওই ব্যক্তি বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে তার সাম্প্রতিক কোনও ভ্রমণের ইতিহাস নেই। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখন ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে এরকম আরও রোগী আছে কিনা, সেটাও খুঁজে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পোলিস বলেছেন, ডেনভারের কাছাকাছি এলবার্ট কাউন্টিতে শনাক্ত ওই রোগীকে এখন আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে এ ভাইরাস পাওয়া যায়নি।
এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হলো যার দুই দিন আগেই রবিবার দেশটির করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতার কথা জানান সরকারের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি। তিনি বলেন, করোনার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনও আসেনি। দেশ আরও জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

গত মাসে থ্যাংকসগিভিং হলিডে শেষে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে গেছে। সংক্রমণের সংখ্যা দুই লাখ এবং দৈনিক গড় মৃত্যু তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এ বছর সেখানে বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটিতে ভ্রমণ কম হলেও তা উল্লেখযোগ্য।

রবিবার ফাউচি সিএনএনকে বলেন, এই উদ্বেগের কথা আমি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে শেয়ার করেছি। আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। এর আগে বাইডেন সতর্ক করে বলেছিলেন, জাতির অন্ধকার দিনগুলো আমাদের পেছনে নয়, সামনে রয়ে গেছে।

সম্প্রতি লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে করোনাভাইরাসের এই নতুন এবং অত্যন্ত সংক্রামক স্ট্রেইনটি ছড়িয়ে পড়ে। এটি আগের ভাইরাসের চেয়ে আরও বেশি সহজে এবং দ্রুত গতিতে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এর ফলে আগামী বছর এতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার আরও বেড়ে যাতে পারে। বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যাও।

সমীক্ষাটি চালিয়েছে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন-এর সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল মডেল অব ইনফেকশাস ডিজিজ। এতে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের অন্যান্য স্ট্রেইনের তুলনায় নতুন এই স্ট্রেইনটি ৫৬ শতাংশ বেশি সংক্রমণযোগ্য।

১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যাল্যান্স বলেছেন, ভাইরাসটির প্রায় দুই ডজন মিউটেশন রয়েছে যা প্রোটিনকে প্রভাবিত করতে পারে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভাইরাসটির নতুন এই স্ট্রেইন সদ্য অনুমোদন পাওয়া ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে ইউরোপের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, নতুন স্ট্রেইনটির ফলে হয়তো ফাইজার ও বায়োএনটেক-এর টিকার কার্যকারিতায় খুব বেশি হেরফের হবে না। সূত্র: বিবিসি, ব্লুমবার্গ।

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে