ভ্যাকসিন এলেও, দূর হচ্ছে না মহামারি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২০; সময়: ২:০৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে। আর এরই মধ্যে আশার ঝলক নিয়ে এসেছে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি মর্ডানা এবং ফাইজার।

কোম্পানি দু’টি জানিয়েছে, রোগটি থেকে বাঁচাতে তাদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক টিকা ৯৫% কার্যকর। ইতোমধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ‘অ্যাডভান্স স্টেজে’ চলে গেছে। আর এর মধ্যে এগিয়ে আছে আমেরিকার মর্ডানা এবং ফাইজার এ দুই কোম্পানি।

বিজ্ঞানীরা এবং জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও আশার আলো দেখতে পেয়েছেন। তারা বলছেন, অবশেষে পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। ছুটির দিনগুলোতে একসাথে সবাই মিলিত হবে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আর ভাবতে হবে না পরিবারগুলোকে।

কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাশাপাশি এই বিষয়টিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এটি কোনো ‘সর্বরোগ নিরাময়যোগ্য ঔষধ’ নয় যে এই প্রতিষেধক নিশ্চিতভাবে কার্যকরী হবে। তারা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনের ব্যবহার মানুষের মাঝে পৌঁছে গেলেও পূর্বের বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। স্যানিটাইজ করা, মাস্ক পরিধান এবং পরস্পরের সাথে ছয় ফুট সামাজিক দূরত্ব এসব কিছুই মেনে চলতে হবে।

যদিও মর্ডানা এবং ফাইজার কোম্পানি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তাদের ভ্যাকসিনটি ৯৪.৫%-৯৫% কার্যকরী তবুও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ ভ্যাকসিনটি রোগের প্রতিষেধক, ভাইরাস সংক্রমণের প্রতিষেধক নয়। সুতরাং রোগ সেরে ওঠার নিশ্চয়তা থাকলেও আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কিন্তু কমেনি কোনো অংশে। তাই মাস্ক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন অত্যাবশ্যক।

অর্থাৎ যারা ভ্যাকসিন নেবে তাদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলে সেটি মানুষকে অসুস্থ করতে পারবে না, কিন্তু ভ্যাকসিন নেওয়া লোকজনের দেহেও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েই যাবে।

টিকা সম্পর্কে নিউয়র্ক টাইমসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এলবার্ট বোরলা বলেন, ‘আমি মনে করি,আমাদের সুরক্ষা মাইলফলক ইতোমধ্যে অর্জন করা হয়েছে। আমরা এখন টিকা অনুমোদন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি’।

ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত পেলেও হাসপাতাল, ফার্মাসিতে এই টিকা সরবরাহ করতে সময় লেগে যাবে। এ বছরের শেষ নাগাদ ৫ কোটি ডোজ এবং ২০২১ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১৩০ কোটি ডোজ সরবরাহ করতে পারবে বলে ফাইজার এবং মর্ডানা প্রতিষ্ঠান দু’টি আশা করছে।

ফাইজার এবং মর্ডানার টিকা নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, ‘আমেরিকার নাগরিকরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে টিকা পেতে শুরু করবেন।’

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে