দিল্লি ভোটের আগে ৮৪’র দাঙ্গা তুলল বিজেপি

প্রকাশিত: মে ১১, ২০১৯; সময়: ১০:৫৫ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : লোকসভার ষষ্ঠ ধাপের ভোটের আর মাত্র একদিন বাকি। কেন্দ্রীয় শাসনাধীন রাজধানী নয়াদিল্লির ভোটও হচ্ছে এই ধাপেই। মোট সাত ধাপের ভোটের এই ষষ্ঠ ধাপের আগেই দিল্লিতে প্রচারণা তৎপরতা জোরদার করেছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা। প্রচারণার ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্পর্কিত ইস্যু বাদ দিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা ও গান্ধী পরিবারকেই আক্রমণের কেন্দ্রে রেখেছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় ভোটের মাত্র দুদিন আগেও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর প্রয়াত বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে রাজনীতির মাঠে টেনে আনেন। তোলেন ১৯৮৪ সালে তার আমলে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ। তবে পুরনো ঘটনা নতুন করে সামনে আনার পর শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত পাঁচ বছরে বিজেপির দাঙ্গা-কুকর্মের হিসাব বিরোধীরাও চাইছেন।

১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর দিল্লিজুড়ে শিখবিরোধী দাঙ্গা হয়েছিল। শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় শিখ নিধন শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কমপক্ষে ৩০০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দিল্লির এই শিখ নিধনে একাধিক কংগ্রেস নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সজ্জন কুমার, জগদীশ টাইটলার, কমলনাথ ও এইচকেএল ভগত সেইসব নেতার কয়েকজন। ৩৫ বছর আগের সেই ভয়াবহ দাঙ্গার প্রসঙ্গ ফের উঠে এসেছে।

শুক্রবার বিজেপির দলীয় টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয় দাঙ্গার বিষয়ে রাজীব গান্ধীর একটি বক্তব্যের ভিডিও। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিশাল জনসমুদ্রকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যখন কোনো গাছের পতন হয়, তখন ধরণী কেঁপে ওঠে।’

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত শিখ দেহরক্ষীদের হাতে নিজের মা ও ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার ঘটনা ও তৎপরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা বুঝিয়েছিলেন। পোস্টে দিল্লিবাসীর উদ্দেশে লেখা ক্যাপশনে বিজেপি বলেছে, ‘এই ভিডিও আপনার ভেতরটাকে নাড়িয়ে দেবে, এখন কাকে ভোট দেবেন সিদ্ধান্ত আপনার।’

১৯৮৪-র শিখ দাঙ্গা নিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেস নেতা সাম পিত্রোদাকে বলেন, ৮৪-তে যা হাওয়ার তাই হয়েছে। গত ৫ বছরে বিজেপি কী কী করেছে তার ব্যাখ্যা দেয়ার দাবিও জানান তিনি।

পিত্রোদার এই বক্তব্যের পরেই সরব হয় বিজেপি। এদিন হরিয়ানার রোহতকের সভা থেকে পিত্রোদার এই মন্তব্যকে দাম্ভিকতার সঙ্গে তুলনা করেন মোদি। আক্রমণ করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও। দাঙ্গার ঘটনাকে সমগ্র শিখ সম্প্রদায়ের দুঃখ বলে বর্ণনা করেন অমিত। বিজেপির তরফে সাম পিত্রোদার এই মন্তব্যের জন্য সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বিজেপি নেতাদের তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছেন রাহুল।

বলেন, ‘মোদি যেখানেই যান, ঘৃণা ছড়াতে থাকেন। হরিয়ানায় এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আর এক সম্প্রদায়ের লড়াই বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি তামিলনাড়ুতে গেলে কোনো পক্ষের সমালোচনা করেন। মহারাষ্ট্রে গেলে উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মানুষের বিরুদ্ধে বলেন, এক ধর্মের মানুষকে অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে লড়িয়ে দেন।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে