‘চৌকিদার’ মোদির বিরুদ্ধে আসল চৌকিদার

প্রকাশিত: মে ১, ২০১৯; সময়: ১১:০৬ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : নরেন্দ্র মোদি এবং তেজ বাহাদুর ফৌজি- দু’জনই ভারতের ‘চৌকিদার’। একজন দেশরক্ষার দাবিতে স্বঘোষিত চৌকিদার। অন্যজন বহিঃশত্রুর হাত থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার সেনানি-ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ান। দেশের আসল চৌকিদার। বিজেপির খাসতালুক উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে টক্কর দিচ্ছেন তেজ বাহাদুর।

সেনা ক্যাম্পে নিম্নমানের খাবারের ভিডিও প্রকাশের জেরে জোর করে বরখাস্ত করা হয় তাকে। ২০১৭ সালের এ ঘটনার পরপরই মোদিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তিনি। এ সুযোগটি লুফে নিয়েছে সমাজবাদী পার্টি (সপা)। বারানসিতে মোদির বিরুদ্ধে তেজকে টিকিট দিয়েছে দলটি। খবর টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার।

জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে প্রহরায় ছিলেন তেজ বাহাদুর। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিজের ফেসবুকে জওয়ানদের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ?জওয়ানদের খেতে দেয়া পোড়া রুটি আর পানির মতো ডালের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল দেশে।

বিএসএফ সরাসরি সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল। এরপর মেয়াদ শেষের আগেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল তাকে। মনে মনে সেই রাগ এবং ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। সেটা উগরে দিতে মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন এ বিএসএফ কনস্টেবল।

লোকসভা ভোটের তোড়জোড় শুরু হতেই মোদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন তেজ। কিন্তু কোনো দলের হয়ে লড়বেন নাকি স্বতন্ত্র লড়বেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সোমবার রাত আড়াইটায় এক টুইট বার্তায় সেটি পরিষ্কার করল অখিলেশ যাদবের সপা।

জানায়, বারানসিতে মোদির বিরুদ্ধে আমাদের নতুন প্রার্থী তেজ বাহাদুর। হরিয়ানার রেওয়ারির বাসিন্দা তিনি।

নিজের প্রচারে সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলবেন বলে জানিয়েছেন তেজ। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়া বা হারা উদ্দেশ্য নয়। সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে আধাসামরিক বাহিনী নিয়ে সরকার যে কতটা ব্যর্থ সেটা তুলে ধরতেই আমার লড়াই।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বাহিনীর জওয়ানদের নাম করে ভোট চাইছেন, কিন্তু তাদের জন্য তিনি কিছুই করেননি বলে অভিযোগ তেজ বাহাদুরের। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় যেসব সিআরপিএফ জওয়ান মারা গেছেন, তাদের শহীদের মর্যাদাও দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ আসনে কংগ্রেস থেকে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচবারের এমএলএ অজয় রায়। গতবার মোদির কাছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবার তিনি এখানে প্রার্থী হননি। ২০১৪ সালের ভোটে সপার পাশাপাশি মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টিও (বসপা) প্রার্থী দিয়েছিল।

এবার মহাজোট গড়েছে অখিলেশ-মায়াবতী। ফলে সপা-বসপার ভোট একই ঝুলিতে পড়ছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটিতে মোদি কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমন গুঞ্জনের কারণ, গতবারের মতো এবারের লোকসভায় ‘মোদি হাওয়া’ তেমন একটা বইছে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে