রাজশাহীতে কোভিড রোগী বাড়লেও চাপ কম হাসপাতালে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২২; সময়: ২:৩৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোগীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ছাড়িয়েছে ৭০ শতাংশের উপরে। করোনা রোগী বাড়লেও হাসপাতালে চাপ কম। অধিকাংশই চিকিৎসা নিচ্ছেন পরীক্ষা ছাড়াই বাড়িতে অবস্থান করে। শুধুমাত্র যাদের অবস্থার অবনতি হচ্ছে তারাই ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এক প্রতিবেদনে জানান, বৃহস্পতিবার রাজশাহীর দুইটি পিসিআর ল্যাবে ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজেটিভ এসেছে ৩৪৫ জনের। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ৭৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

তিনি জানান, এ দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৮ জনের শরীরে। একই সময়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা পজেটিভ এসেছে ২৮৭ জনের।

এর আগের দিন বুধবার রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, গত মঙ্গলবার ছিল ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং গত সোমবার রাজশাহী জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

শামীম ইয়াজদানী জানান, রেকর্ড শনাক্তের দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে হাসপাতালের ২৯/৩০ নম্বর ওয়ার্ডে তারা মারা যান। এদের মধ্যে করোনায় মারা গেছেন একজন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। এছাড়া করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন অন্যজন। তিনি পাবনা থেকে রামেক হাসপাতালে এসেছিলেন।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ জন রোগী। ১০৪ শয্যার করোনা ইউনিটে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৯ জন।

এদের মধ্যে রাজশাহীর ২৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন, নওগাঁর ৩ জন, নাটোরের ৪ জন, পাবনার ৩ জন, কুষ্টিয়ার ৩ জন, সিরাজগঞ্জের একজন, জয়পুরহাটের একজন, ঝিনাইদহের একজন এবং মেহেরপুরের একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। রেগীদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ২৮ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৮ জন। করোনা ধরা পড়েনি তিনজনের।

হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী বলেন, রাজশাহীতে এখন ঘরে ঘরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগি রয়েছে। তারা বাড়িতে থেকেই সাভাবিক নিয়মে জ¦র শর্দি কাশির চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ভালও হয়ে যাচ্ছেন তারা। এ জন্য হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ কম। তবে যাদের অবস্থার অবনতি ঘটছে তারাই শুধু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে টিকা না নেয়ার সংখ্যায় বেশী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে