যশোরে তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২; সময়: ১১:০৫ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : যশোরে আবারো করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। একদিনের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩৩.৭৪ শতাংশে। যা আগের দিন (১১ জানুয়ারি) ছিল ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীও শনাক্ত হয়েছে যশোরে। সেখানে মোট তিনজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ২ জন ভারতীয় নাগরিক। আক্রান্ত দুই ভারতীয় ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টার থেকে জানানো হয়, ভারতীয় দুই নাগরিকের মধ্যে একজন পুরুষ, যার বয়স ৩০ বছর। আর আক্রান্ত নারীর বয়স ৪১ বছর। তাদের মধ্যে করোনার তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

বাংলদেশি নাগরিক একজন পুরুষ এবং তার বয়স ২৫ বছর। যিনি স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার তিন দিন ধরে ঠান্ডা ও গলা ব্যথা ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ নেই।

যবিপ্রবির সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরনের স্পাইক প্রোটিনে ৩০টিরও বেশি মিউটেশন বিদ্যমান। ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া তিনজনের ডাটা জিএসআইডি ডাটাবেজে জমা দেওয়া হয়েছে।

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারের গবেষক দলের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই তিনজনের নমুনা সংগ্রহের পর জিনোম সিকোয়েন্স করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, ‘শনাক্ত হওয়া দুই ভারতীয় বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। তারা ফিরে যাওয়ার সময় নমুনা পরীক্ষা করলে করোনা ধরা পড়ে। পরে তাদের জিনোম সিকোয়েন্স করে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। আর শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস নেই। বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে আসার কথাও জানা যায়নি। আমরা ধরে নিচ্ছি, ওমিক্রন ধরনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে।’

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ওমিক্রন খুবই দ্রুত সংক্রমনশীল। এজন্য টিকা গ্রহণ, মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্তের কাজটি যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে অব্যাহত থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে