চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৬

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১; সময়: ৩:৩৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আক্রান্তের পাশাপাশি ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের।

এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্তদের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত আসাসহ বুক পেটে পানি জমছে খুব দ্রুত। তাই জটিলতা বাড়ছে পজিটিভ হওয়ার এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই। এদিকে সচেতনতার অভাবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। রাজধানীর শনির আখড়ার গৃহিনী সালমা বেগম। নিজে আক্রান্ত হয়েও ডেঙ্গু রোগী বোনকে সেবা করছেন দিনরাত। হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন সালমার ভাগনে। পরিবারের ৬ সদস্য ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় দিশেহারা সালমা বেগম। একই অবস্থা আরও অনেকের।

সালমা বেগম বলেন, প্রথমে ডেঙ্গু জ্বরে আমার ছেলে আক্রান্ত হয়, তারপর ভাগনে এরপর বোন এভাবে ৬ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। শুধু রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালেই ভর্তি ডেঙ্গু নিয়ে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে গড়ে প্রায় ২০০ রোগী। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই অধিকাংশ রোগীর জ্বরের পাশাপাশি নাক -মুখ দিয়ে রক্ত আসাসহ পানি জমছে বুকে পেটে।

শনির আখড়ার এক যুবক বলেন, আমার মায়ের জ্বর ছিল, বুকে পেটে পানি এসেছে, বমি বমি ভাবও ছিল। কিছু খেতে পারছিল না। পরিবারের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে রোগীকে মশারির মধ্যে রেখে অন্য সদস্যদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৭-এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. মিজানুর রহমান। বলেন, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জ্বর, বুকে-পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামশ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। সচেতন হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ১২ হাজারের মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫২ জন। এদিকে এ পরিস্থিতে সহসাই ডেঙ্গু প্রকোপ থেকে বাঁচার কোনো সুখবর নেই জানিয়ে কীটতত্ত্ববিদ জানান, সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ যতই বাড়ুক ক্রাশ প্রোগ্রাম বিজ্ঞানভিত্তিক না হলে প্রতি মৌসুমেই ফিরে আসবে ডেঙ্গু।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধাপক কবিরুল বাশার বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু কমে আসবে বলে মনে করছি না। এডিস মশার জন্য সারা বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না করাপ যায় তাহলে সিটি করপোরেশনের বাজেট যতই বাড়ুক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ হবে না। ২০২১-২২ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য ১১০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই সিটির। বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ছিল ১১২ কোটি টাকা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৭০ কোটি টাকা। খরচের মধ্যে রয়েছে- মশার ওষুধ বাবদ ৩০ কোটি, আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কারে ১ কোটি ৫০ লাখ, ফগার ও স্প্রে মেশিন পরিবহন খাতে ৩ কোটি, বিশেষ কর্মসূচিতে ২ কোটি, আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণে ১২ কোটি টাকা ও চিরুনি অভিযানে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি টাকা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্যে এই খাতে ২০২০-২১ অর্থবছর বরাদ্দ ছিল ৩৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি মশক নিধন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

তবে নিচের যে কোনো একটি বিপদ চিহ্ন থাকলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

১. প্রচণ্ড পেট ব্যথা ও অত্যধিক পানি পিপাসা থাকলে।

২. ঘন ঘন বমি বা বমি বন্ধ না হলে।

৩. রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে।

৪. দাঁতের মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত হলে।

৫. ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রস্রাব না হলে।

৬. প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলে।

৭. ডায়রিয়া হলে এবং অত্যধিক শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করলে।

৮. অন্তঃসত্ত্বা মা, নবজাতক শিশু, বয়স্ক রোগী, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ থাকলে।

৯. শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে গেলে।
এ ছাড়া আপনার চিকিৎসক যদি আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে বলে সেক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

যদি ওপরের কোনো বিপদ চিহ্ন না থাকে এবং রোগী মুখে পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে পারে সেক্ষেত্রে রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

কী চিকিৎসা দেবেন?

রোগী পূর্ণ বিশ্রামে থাকবে,
স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, ভাতের মাড়, স্যুপ খেতে দিতে হবে।

প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ দেয়া যাবে না।

জ্বর কমাতে কুসুম গরম পানি দিয়ে সারা শরীর মুছে দেবেন।

  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে