রামেকে নবজাতক বিশেষ ইউনিট চালু হয়নি দুই বছরেও

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১; সময়: ১০:৪২ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১ থেকে ২৮ দিন বয়সের শিশুদের (নবজাতক) উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে ইউনিসেফ। একটি স্পেশাল কেয়ার নিওনেটাল ইউনিট (স্ক্যানো) করতে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা সব ধরনের যন্ত্রপাতিসহ ৪০টি শয্যাও দিয়েছে। এরপর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে। কিন্তু বিশেষ এই ইউনিটটি এখনো চালু হয়নি।

ফলে আধুনিক শয্যা এবং সব ধরনের যন্ত্রপাতি পড়েই আছে। আর তাই আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নবজাতকেরা। প্রথমে বিদ্যুৎ না থাকা এবং পরে করোনা মহামারি সামাল দিতে গিয়ে শিশুদের স্ক্যানো করা যায়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের স্ক্যানো ওয়ার্ড করতে ২০১৯ সালে ৪০টি আধুনিক শয্যা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে ইউনিসেফ। স্ক্যানো ইউনিটে মূলত প্রি-ম্যাচিউরড শিশুসহ ১ থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশুদের জীবন রক্ষার চিকিৎসা চলে। অপরিপক্ব, কম ওজনসহ নানাবিধ জটিল সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের ২৮ দিন বয়স হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, রামেক হাসপাতালে স্ক্যানো করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শয্যা আছে। ইউনিসেফ এসব করে দিয়েছে। তবে ইউনিটটি এখনো চালু হয়নি। সবকিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে নেওয়ার পরও এটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে। যন্ত্রপাতি ও শয্যাগুলোর দামও অনেক বেশি। এই ইউনিটে প্রতিটি শয্যার জন্য নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যার মতোই খরচ পড়ে।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল হোসেন বলেন, স্ক্যানো তৈরির কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শুধু বিদ্যুতের কারণে এটি চালু হয়নি। এখন শিশু ওয়ার্ডে আমাদের শয্যা আছে সাধারণ। স্ক্যানো ওয়ার্ড হলে শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়া যাবে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, দুই বছর আগেই ওয়ার্ড প্রস্তুতের পর বিদ্যুতের সমস্যায় চালু করা যায়নি। কারণ ওই ওয়ার্ডে প্রচুর ভোল্টেজ দরকার। কিন্তু তখন এত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ব্যবস্থা ছিল না। তাই ১০ লাখ টাকা খরচ করে এক হাজার কেভির একটি নতুন লাইন করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি সামলাতে ওয়ার্ডটিকে করোনা ইউনিট করা হলো। এখন করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ওয়ার্ডটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখন স্ক্যানো চালু করা যাবে।’

  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে