সংক্রমিত এলাকাভিত্তিক মশক নিধনের তাগিদ

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২১; সময়: ৪:৫৬ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কেবলমাত্র লার্ভার পেছনে ছোটার কারণেই রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

কিটতত্ত্ববিদরা বলছেন, সমন্বিত মশক নিধনে না গিয়ে কেবল চিরুনি অভিযানে আটকে থাকাতেই এ পরিণতি। সেক্ষেত্রে সংক্রমিত এলাকাভিত্তিক মশক নিধনের তাগিদ তাদের। এদিকে অধিদপ্তরের জরিপের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

২০১৯ সালের পর চলতি মৌসুমে আবারো ভয়াবহ রূপে ফিরেছে ডেঙ্গু। আগস্টজুড়েই দৈনিক কেবল হাসপাতালেই ভর্তি রোগীর সংখ্যা দুই শতাধিক। মৃতের সংখ্যাটাও ৪২। অথচ জুনের মাঝামাঝিতেই অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে মাঠে ছিলো দুই সিটি করপোরেশন। লার্ভা নিধনে ছিল বিশেষ চিরুনী অভিযান। তবুও দু’মাস বাদে রাজধানীর হাসপাতালে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ঠাঁই নেই অবস্থা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে এত আয়োজনের সুফল মিলছে কতটুকু।

কিটত্ত্ববিদরা বলছেন, কেবল লার্ভা নিধনেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্য আসবে না। দরকার উড়ন্ত মশা মারতে বিশেষ অভিযান। এছাড়া কোন কোন এলাকায় সংক্রমিত মশার হার বেশি সেই অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে, দ্রুত রোগী চিহ্নিত করতেও সফল হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কিটত্ত্ববিদ মঞ্জুর এ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু রোগের প্রসারটা বন্ধ করতে হবে। সেটা আমরা না করে, যেটা আমরা করেছি যে, হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো আমরা গান গেয়ে ঢোল বাজিয়ে সারা শহর চষে বেড়িয়েছি আমরা। এভাবে মশা নিমূল করা যায় না। মশাকে একটা ম্যানেজেবল সংখ্যায় রাখাই উদ্দেশ্য।

তবে নগর কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই দফায় আরো সতর্ক হচ্ছেন তারা। নেওয়া হচ্ছে জরিপ ধরে ব্যবস্থা। উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটি অঞ্চলে সব মশা মারার কর্মীসহ অঞ্চলভিত্তিক ক্রডিং প্রোগ্রাম শুরু হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণে বছরব্যাপী পরিকল্পনার তাগিদ তাদের।

এদিকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের তথ্যমতে, মোট রোগীর ৯৫ ভাগই রাজধানীর। যাদের বেশিরভাগই ক্ষতিকর ধরন ডেনভি-থ্রিতে আক্রান্ত হচ্ছে। প্লেটলেট দ্রুত কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় রোগী দুর্বল হয়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। চলতি বছর আগস্টেই সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর নতুন ধরন ডেনভি থ্রি’তে দ্রুত খারাপ হচ্ছে রোগীর অবস্থা। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের আক্রান্তদের প্লেটলেট অনেক কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তক্ষরণ হওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে রোগীরা। বিশেষ করে শিশু রোগীরা। বয়স্কদের তুলনায় শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা বেশি খারাপ হচ্ছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নুরুজ্জামান বলেন, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুনের কাছাকাছি। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আমরা পাচ্ছি।

ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর থাকবে, সেই সঙ্গে বমি ও কালো পায়খানা শুরু হবে, পেটে ব্যথা থাকবে। এধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। নগরবাসীকে সচেতন থাকার তাগিদ দেন এ চিকিৎসক।

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে