‘করোনা নিয়ে স্বস্তির সময় এখনো আসেনি’

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২১; সময়: ৩:৫৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চূড়া থেকে ধীরে ধীরে নামছে দেশে কোভিড সংক্রমণ। গত ৪ সপ্তাহ ধরেই কমতির দিকে আক্রান্তের হার। আর মৃত্যু কমছে গত তিন সপ্তাহ ধরে। বর্তমান পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই ভাঙতে হবে গুচ্ছ বা ক্লাস্টার সংক্রমণ। না হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আবারও দেখতে হতে পারে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি।

নমুনা পরীক্ষা কিংবা হাসপাতালে রোগী আসা- সবখানেই দৃশ্যমান চাপ কমে আসার চিত্র দেখা গেছে। এ যাবতকালে করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত শনাক্ত হয় চলতি বছরের ৩০তম সপ্তাহে মাত্র ৭ দিনেই শনাক্ত ছিল প্রায় এক লাখ। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে নামতে থাকে কোভিডের পারদ। উল্লেখযোগ্য হারে সংক্রমণ পড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা টানা ৪ সপ্তাহ ধরেই। যার প্রভাব প্রাণহানিতেও। ৩১তম সপ্তাহে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩৬ জনের মৃত্যু দেখেছিল বাংলাদেশ। পরের ৩ সপ্তাহেই কমছে প্রাণহানি।

সংক্রমণ কমে আসাকে লকডাউনের সুফল মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো স্বস্তি নিঃশ্বাস ফেলার সময় আসেনি। তবে উন্নতির দিকে থাকা পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে হবে। নজর দিতে হবে গুচ্ছ সংক্রমণ বা ক্লাস্টার নিয়ন্ত্রণে। নতুবা কয়েক সপ্তাহ পর আবারো দেখা যেতে পারে ঊর্ধ্বগতি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিদওয়ান ‍উর রহমান বলেন, খুব বেশি স্বস্তির কোনো কারণ নেই। আমরা এখনো সংক্রমণের ১০ শতাংশের বেশি আছে। তাহলে ঠিক ওইভাবে ১০ শতাংশ আছে-একটা পপুলেশন যারা আছে সংক্রমেণর ঊর্ধ্বমাত্রার সময় ভালো হয়েছে এবং নিম্নমুখীর সময় যারা ভালো হয়েছে ওদের জন্য একটা পদ্ধতিতে ব্যবস্থা করতে হবে, সেই পদ্ধতি নিতে হবে। সেটার মধ্যে সামাজিক সচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যতদূর সম্ভব দেশের মানুষকে টিকা দিয়ে দেওয়া।

আইআইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণের যে গুচ্ছ বা ক্লাস্টার, সেই ক্লাস্টারগুলোকে যদি আমরা ভেঙে ফেলতে পারি তাহলে ভালো সুফল আসবে। যেখানে অনেক মানুষ আক্রান্ত, অনেকগুলো বাড়ির মানুষ আক্রান্ত, এক প্রতিষ্ঠানের সবাই আক্রান্ত সেইগুলোকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে সংক্রমণটা দ্রুত হয়তো বাড়বে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি ফল পেতে টিকা কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। মহামারি করোনার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সারা বিশ্ব। করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কাছে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোও ধরাশায়ী। পৃথিবীজুড়ে টিকা কার্যক্রম চললেও থামছে না সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন আরও ৭ হাজার ৫১২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৩ জন।

এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৫ লাখ ২৩ হাজার ১৭৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ কোটি ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ৬০১ জন। এর আগে সোমবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন আরও ৭ হাজার ৪২৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৭৪ জন।

আক্রান্তের তালিকায় তুরস্ক সপ্তম, আর্জেন্টিনা অষ্টম, ইরান নবম ও কলম্বিয়া দশম স্থানে রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯ ।

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে