করোনা পরীক্ষার কিট নিয়ে বাণিজ্যের ছক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২১; সময়: ১১:৪০ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : করোনার নমুনা পরীক্ষার কিট আবারও বিশেষ কয়েকটি কোম্পানি থেকে কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষ। কিট কেনার জন্য সম্প্রতি নতুন যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, তাতে দু-একটি কোম্পানি ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে পারবে না। এর পেছনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশ দায়ী বলে সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন।

চলতি মাসে করোনার নমুনা পরীক্ষার আরটিপিসিআর কিট উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় (ওটিএম) ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তিনটি লটে ১৮০ কোটি টাকার কিট কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে অন্যান্য সামগ্রীর মতো কিটও সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় (ডিপিএম) সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কিন্তু কিট নিয়ে বাণিজ্য ও মনোপলি করার অভিযোগের পর স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ ওটিএম প্রক্রিয়ায় কিট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে কিট সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তাদের ধারণা ছিল, সিন্ডিকেট বাণিজ্যের পরিবর্তে গুণগত মানসম্পন্ন কিটের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু নতুন দরপত্রে আরোপিত শর্ত তাদের হতাশ করেছে। এতে এমন কয়েকটি শর্তারোপ করা হয়েছে, যা পূরণ করা এক-দুটি কোম্পানি ছাড়া অন্যদের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ওই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিটিই আবারও সরবরাহ কাজ পেতে চলেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

এটিকে কিট বাণিজ্যের নতুন ছক বলে মনে করেন অনেকে। তাদের অভিমত, সৎ চিন্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলে আহ্বান করা দরপত্রে এ ধরনের শর্তারোপ করা হতো না। আরোপিত শর্ত দেখলে মনে হবে, দু-একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কিছু ব্যবসায়ী ও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি আমলে নেওয়া।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কেনাকাটার জন্য একটি স্পেসিফিকেশন ও বাজারদর কমিটি থাকে। স্পেসিফিকেশন কমিটি পণ্যের মান বিবেচনায় নিয়ে একটি তালিকা করবেন এবং বাজারদর কমিটি ওই পণ্যের মূল্য যাচাই-বাছাই করে কেনার সিদ্ধান্ত নেবেন। কিট কেনার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সেটি হয়েছে কিনা জানা নেই। হয়ে থাকলে এ ধরনের শর্তারোপ করা হতো না বলে তিনি মনে করেন।

সরকারি হিসাবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত আরটিপিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলে ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৬৫ লাখ ৩২ হাজার ৯২৬টি এবং বেসরকারিভাবে ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে শতকরা ৯০ শতাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে আরটিপিসিআর মেশিনের মাধ্যমে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কিট সরবরাহকারী অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত কিট কেনা হয়েছে, তার বেশিরভাগই চীনের সানসিওর বায়োটেক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের। শুরুতে প্রতিটি কিটের মূল্য নেওয়া হয় তিন হাজার ২০০ টাকা। এরপর তিন হাজার এবং পরে দুই হাজার ৭৫০ টাকায় এই কিট কেনা হয়। ধাপে ধাপে তা কমে এখন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। অথচ শুরু থেকেই এই কিটের মূল্য সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকার বেশি ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শুরু থেকে তৎকালীন মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ কিট কেনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। ওই কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. সানিয়া তাহমিনাকে। তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি চীনের সানসিওর বায়োটেক কোম্পানির কিটের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর এককভাবে কিট সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে মাঝখানে বাণিজ্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও কয়েকটি কোম্পানিকে কিট সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়। সেসব কোম্পানির কাছ থেকে অল্প কিছু কিট কেনার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কিটের বেশিরভাগ সরবরাহ অব্যাহত রাখে এই সানসিওর বায়োটেক। কিট বাণিজ্যের একটি হিসাব তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, সানসিওর কোম্পানির কাছ থেকে ৩০ লাখ কিট কেনা হলে এবং গড়ে প্রতিটি কিট থেকে দুই হাজার টাকা মুনাফা করলেও নূ্যনতম ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্তি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যেকে আনুপাতিক হারে এই টাকার ভাগ পেয়েছেন। এ কারণেই এই কিট কেনার প্রতি সবার আগ্রহ রয়েছে।

সাজানো শর্ত আরোপের অভিযোগ: কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) আহ্বান করা নতুন দরপত্রের ১৪.১ (এ) ধারার শর্ত অনুযায়ী, দরপত্র আহ্বান করার দিন থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্নিষ্ট পণ্য সরবরাহ কাজে নূ্যনতম এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ১৪.১ (বি) ধারার শর্ত অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর সংশ্নিষ্ট পণ্য সফলভাবে সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট পণ্যের নূ্যনতম ১০ কোটি টাকার একক কার্যাদেশ পেয়েছে- এমন অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। ২১.১ (১) ধারার শর্ত অনুযায়ী, যেসব কোম্পানির আরটিপিসিআর কিট দরপত্রে অংশ নেবে, সেগুলোর অবশ্যই আইইডিসিআর থেকে বৈধতা অথবা মূল্যায়ন রিপোর্ট থাকতে হবে।

এই তিনটি শর্ত একমাত্র চীনের আরটিপিসিআর কিট সানসিওর বায়োটেক ছাড়া অন্যদের নেই। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার (ডিপিএম) পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় (ওটিএম) করোনার নমুনা পরীক্ষার কিট কিনতে চাইলেও সানসিওর বায়োটেক কোম্পানিকে টার্গেট করেই এগুচ্ছে সংশ্নিষ্টরা। গত দেড় বছর ধরে এককভাবে এই সানসিওর কিট কিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা করে আসছে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ। কিট নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর কোরিয়ান একটি কোম্পানি থেকে কিছু কিট কেনা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পরে তা থেমে যায়।

সানসিওর বায়োটেকের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, ইউজার ম্যানুয়ালে তাদের কিটের লিমিট অব ডিটেকশন (এলওডি) অর্থাৎ শনাক্তকরণের সীমা ২০০ কপিস পার এমএল। একই সঙ্গে ক্লিনিক্যাল সেন্সিটিভিটি ৯৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং স্পেসিফিসিটি ৯৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ বলা হয়েছে। শনাক্তকরণের সীমা ২০০ কপিস পার এমএল থাকার কারণে কোনো রোগীর ১৯৯ কপিস পার এমএল ভাইরাল আরএনএ থাকলে এই কিটে করোনা পজিটিভ রোগীর রেজাল্ট নেগেটিভ আসবে। অথচ আইইডিসিআর সানসিওর বায়োটেক কিটের ক্লিনিক্যাল সেন্সিটিভিটি এবং স্পেসিফিসিটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন দিয়েছে শতভাগ।

চীনের এই কিটের সরাসরি বাফার পদ্ধতিতে পরীক্ষার সিই সনদ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (ইউএসএফডিএ) সনদ নেই। এই সিই সনদ পণ্যের ছয়টি নির্দেশকের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। ইউএসএফডিএ বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ স্বীকৃত মান নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা। এই সংস্থা কোনো পণ্যকে স্বীকৃতি দিলে সেটি সর্বোচ্চ মানের বলে ধরে নেওয়া হয়। অথচ দেশে ইউএসএফডিএর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কিটের অনুমোদনও মিলছে না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সমকালকে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় করোনাকালীন কেনাকাটা করা হয়েছিল। সেই সংকট অনেকটা কেটে যাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সেটি নিয়ে সমস্যার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

এফডিএ সনদ থাকলেও মিলছে না আইইডিসিআরের অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের কুইডেল করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কিট সরাসরি বাফার মেথড ও আইসোলেশন পিউরিফিকেশন এক্সটাকশন- উভয় মেথডে ইউএসএফডিএ অনুমোদিত। এই কিটের লিমিট অব ডিটেকশন (এলওডি) ১৮৫ কপিস পার এমএল। ক্লিনিক্যাল সেন্সিটিভিটি এবং স্পেসিফিসিটি শতভাগ। একইভাবে ইউরোপের বিজিআই জেনোমিক্স কোম্পানি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার সিসান বায়োমেট্রিক্যাল ও বায়োনিয়ার করপোরেশনসহ সিই ও ইউএসএফডিএ সনদপ্রাপ্ত অনেকগুলো কোম্পানির কিট থাকলেও তা ক্রয় করা হচ্ছে না।

কারণ আইইডিসিআর ওই কিট ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। তবে সিএমএসডির কেনা সানসিওর কিট আইইডিসিআরও ব্যবহার করছে না। একটি সূত্র জানায়, আইইডিসিআর দক্ষিণ কোরিয়ার বায়োনিয়ার করপোরেশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের থার্মোফিশার সায়েন্টিফিকের ট্যাকপথ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া চীনের ড্যা অ্যান জেন, ক্যাটট্যাগ ও ডায়এমজি কোম্পানির কিটের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে আসছে।

সরকারিভাবে কেনার পরও সানসিওর কিট কেন আইইডিসিআর ব্যবহার করছে না- জানতে চাইলে আইইডিসিআর পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সানসিওর কিট সরবরাহ করা হয়। তাদের কাছে অন্য কিট মজুদ থাকায় তারা সানসিওর কিট ব্যবহার করছেন না। মজুদ ফুরিয়ে গেলে তখন এটি ব্যবহার করা হবে।

সানসিওরের কিটের ক্লিনিক্যাল সেন্সিটিভিটি এবং স্পেসিফিসিটি শতভাগ নির্ধারণ করে দেওয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, কোনো কোম্পানি যখন মানদণ্ড নির্ধারণ করে, তখন অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। আইইডিসিআরে সে ধরনের সুবিধা নেই। আইইডিসিআরের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে, সেটি প্রতিবেদন আকারে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং হেরফের হতে পারে।

ইউএসএএফডিএ সনদ পাওয়া অনেক কোম্পানি আবেদন করার পরও আইইডিসিআরের অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বলেন, ‘এটি আপনাদের ভুল ধারণা। ভেতরের কথা জেনে কথা বলবেন। আমাদের ওপর ফি নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা রয়েছে এবং এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুতরাং এটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কিট ছাড় করা সম্ভব নয়।’

করোনার শুরু থেকে কয়েকটি কোম্পানি কিট অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও ছাড়পত্র মেলেনি তুলে ধরে জানতে চাইলে ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, অনেক কিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিচার-বিশ্নেষণ না করে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করতে পারেন। কে কী বলল, তার পেছনে দৌড়ানো আমার কাজ নয়। ফি নির্ধারণ-সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু হওয়ার আগে অনেক কিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য মোট কতটি কিট অনুমোদন পেয়েছে জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘কটি কিট অনুমোদন পেয়েছে, তা মুখস্থ বলে দেওয়া যাবে না।’ভুক্তভোগীর অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের কুইডেল কোম্পানির দেশীয় ডিস্ট্রিবিউটর মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, গত বছরের এপ্রিলে তিনি কিটের অনুমোদনের জন্য আইইডিসিআরে নমুনা জমা দেন। ছয় মাস পর ওই কিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে আইইডিসিআর থেকে তার কাছে নতুন করে কিটের নমুনা চাওয়া হয়। সেটি জমাও দেন তিনি। কিন্তু আজ পর্যন্ত আইইডিসিআর থেকে ওই কিটের বিষয়ে কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।

মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, কিটের আরও অনেক কোম্পানি সনদ পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ সেগুলো সুরাহা করছে না। এমনকি এখন তারা আবেদন পর্যন্ত নিচ্ছে না। অপরদিকে সিএমএসডি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে শর্ত দিয়েছে, যেসব কোম্পানির আরটিপিসিআর কিট দরপত্রে অংশ নেবে, সেগুলোর অবশ্যই আইইডিসিআর থেকে বৈধতা অথবা মূল্যায়ন রিপোর্ট থাকতে হবে। কিন্তু আইইডিসিআর রিপোর্ট না দিলে কীভাবে অন্যরা দরপত্রে অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, একটি কোম্পানির কিট কিনতেই এমন লুকোচুরি করা হচ্ছে। সরাসরি দরপত্রের নামে মূলত সংশ্নিষ্টদের নির্ধারণ করা কোম্পানিকে কাজ দিতেই এমনটি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ইউএসএফডিএ সনদ পণ্যের গুণগত মান যাচাই করে দেওয়া হয়। গুণগত মানে সামান্য বিচ্যুতি থাকলেও সনদ মেলে না। ইউএসএফডিএ সনদ পাওয়া পণ্যকে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন- এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। অপরদিকে সিই সনদ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ প্রদান করে। যাচাই-বাছাই করে তারা ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট দেয়। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের তৈরি করা পণ্যের সিই সনদ নিজেই প্রদান করে। সুতরাং ইউএসএফডিএ এবং সিইর মধ্যে অনেক তফাৎ।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সানসিওর কিটের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষায় অনেকে নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিদেশে গিয়ে পজিটিভ হয়েছেন। কয়েকটি দেশ বাংলাদেশিদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অথচ সংশ্নিষ্টরা শুধু ব্যক্তিগত লাভের কারণে এই সানসিওর কিট কিনতেই আগ্রহী বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, জরুরি প্রয়োজনের তাগিদে এতদিন ডিপিএমে কেনাকাটা করা হয়েছিল। এখন ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনাকাটা করা হবে।

সবার জন্য প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। অনেকের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মানসম্পন্ন পণ্যটি পাওয়া সম্ভব হবে। কিট কেনা নিয়ে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে