আগস্টেই গ্রামে যাবে করোনার টিকা

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২১; সময়: ২:২০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙছে আগের মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (২৬ জুলাইয়ের হিসাব) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪৭ জন মারা গেছেন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড। এছাড়া এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯২ জন। এটিও একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে করোনার সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করছেন, প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় টিকা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ। কিছুদিন আগে পাশের দেশ ভারতে করোনার সংক্রমণের হার ছিল আমাদের মতো ঊর্ধ্বগতি। এ কারণে তারা টিকা দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। বন্ধ করে দেয় টিকা রফতানি। বর্তমানে সেখানে ৩ শতাংশের নিচে করোনা শনাক্ত হচ্ছে। আমাদের এখানে তা ৩২ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে টিকা দেওয়ার অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে টিকাদানের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি টিকা সংগ্রহ, মজুত ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, করোনা থেকে রক্ষা পেতে টিকার কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, দিনদিন ভাইরাসের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। যেটি সর্বশেষ আসে, সেটি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পৃথিবীর ১০০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যারা গণহারে টিকা দিতে পেরেছে, তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিটি দেশেই সংক্রমণ ছড়ানোর নিয়ম যেমন এক, তেমনি নিয়ন্ত্রণের নিয়মও এক। যেহেতু নতুন ভ্যারিয়েন্ট আগের চেয়ে খুবই দ্রুত ছড়ায় এবং এর ক্ষতিসাধনের সক্ষমতাও বেশি; এ কারণে রোগীদের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, তীব্র কষ্ট অনুভব করছে। এটির প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব কেবল টিকার মাধ্যমে।

এদিকে, করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কার্যক্রম যেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে শুরু করা যায়, সেই নির্দেশনাও দেন তিনি। সোমবার (২৬ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে যেসব বয়স্ক লোক আছেন, তাদের ভ্যাকসিনেশনের (টিকাদান) ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামের বয়স্ক রোগীরাই এখন বেশি হাসপাতালে আসছেন, এ সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ। তাদের মৃত্যুর হার বেশি, আক্রান্তের হারও ৯০ শতাংশ। এ কারণে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আমরা দ্রুত শুরু করে দেব বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের প্রথম দিকে দেশে আসবে ২১ কোটি ডোজ টিকা। চীনের সিনোফার্মের তিন কোটি ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ, কোভ্যাক্সের আওতায় সাত কোটি এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি ডোজ টিকা আনতে এরই মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছিলেন, এসব টিকা ১৪ কোটি মানুষকে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ মানুষ তা পাবে। ২১ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে এক কোটি করে ধরলে ২১ মাস সময় লেগে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘টিকাদান কর্মসূচিতে খুব দ্রুতই গতি আসবে। আমরা এ কর্মসূচি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাব। আমাদের পরিকল্পনা হলো, আগামী ৭ বা ৮ আগস্টের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা। যদি আমরা এ সময়ে না পারি, তাহলে ১৫ আগস্টের পর শুরু করব।’

তিনি আরও বলেন, গ্রামপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলে এটি প্রয়োগে গতি আসবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্রামপর্যায়ে দিনে আমরা এক কোটি পর্যন্ত টিকা দিতে পারি। সে অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করব। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো টিকার তাপমাত্রা। ফাইজার থেকে যে টিকা আসবে তা আমরা কীভাবে গ্রামে দেব? এ ধরনের কিছু সমস্যা তো আছেই।

তিনি বলেন, আমরা চাইলেই সব টিকা গ্রামপর্যায়ে দিতে পারব না। টেকনিক্যাল দিকটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু এ মুহূর্তে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং ২০২২ সালের মধ্যে ২১ কোটি ডোজ টিকা আসবে, তাই এখন থেকেই গ্রাম পর্যায়ে ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে।

টিকা আসামাত্রই সবাই যেন টিকা নেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে বলেন আইইডিসিআরের প্রধান উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ের তাপমাত্রায় যে টিকা রাখা যাবে, সেগুলোই আমরা দেব। বিশেষ করে সিনোফার্মের তিন কোটি টিকা গ্রামপর্যায়ে দেওয়ার কথা ভাবছি’ বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক।

  • 110
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে