গ্রাম-জনপদে করোনা সংক্রমণ অপ্রতিরোধ্য!

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১; সময়: ১০:১২ am |

তারেক মাহমুদ : গ্রাম জনপদে করোনা সংক্রমণ বাড়তেই আছে। সংক্রমণ ক্রমশই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞগণ সতর্ক করছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। সোমবার (২১ জুন) রামেক হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা ও সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিঙে তিনি বলেন, নতুন ভর্তি রোগির প্রায় ৬০ শতাংশই গ্রাম থেকে এসেছে। বর্তমানে গ্রামের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

শামীম ইয়াজদানী বলেন, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় থামানো যাচ্ছে না করোনার সংক্রমণ। এখন রোগির সংখ্যা প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে। তবে এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই এই মহারারি মোকাবেলা সম্ভব বলে জানান তিনি।

এদিকে, ধীরে ধীরে গ্রামে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন, আইশৃঙ্খলাবাহিনী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবকসহ দায়িত্বরত সকলকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এদিকে রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, রোববার (২০ জুন) রাজশাহীতে ১ হাজার ১০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৭৭ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৫.১২ শতাংশ। এদিন ( রোববার) সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ২০২টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
জেলার ৯টি উপজেলা ও সিইএস অফিসসহ ২৯৯টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৮৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। বাঘা উপজেলায় নমুনা দিয়েছে ৫৬ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১, চারঘাটে নমুনা দিয়েছে ৩৩ জনের মধ্যে পজিটিভ হয়েছে ১২ জন, পুঠিয়ায় ৪৫ জনের মধ্যে পজিটিভ ১১ জন, দুর্গাপুরে ৩৯ জনের মধ্যে পজিটিভ ১৯ জন, বাগমারায় ৩৯ জনের মধ্যে পজিটিভ ১৪ জন, মোহনপুরে ৩২ জনের মধ্যে ৮ জন পজিটিভ, তানোরে ১৩ জনের মধ্যে ৬ জন পজিটিভ, পবায় ২৪ জনের মধ্যে ২ জন পজিটিভ, গোদাগাড়ীতে ১২ জনের মধ্যে ২ জন পজিটিভ।

শনিবার (১৯ জুন) রাজশাহীতে ৭৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৩৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের হার ১৭. ৮৪ শতাংশ। এদিন ( শনিবার) সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭৭৮টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন জেলার ৯টি উপজেলা কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। তবে সিএস অফিসে এদিন ৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১৮ জুন) রাজশাহীতে ১ হাজার ৬৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫৯ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের হার ২১. ৯৪ শতাংশ। এদিন ( শুক্রবার) সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ২৮২টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ২৬৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা ও সিইএস অফিসসহ ৩৫৪টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে মাত্র ৯১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এদিন বাঘা উপজেলায় নমুনা দিয়েছে ১০৪ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬, চারঘাটে নমুনা দিয়েছে ৩৭ জনের মধ্যে পজিটিভ হয়েছে ১৪ জন, পুঠিয়ায় ৪৩ জনের মধ্যে পজিটিভ ১২ জন, দুর্গাপুরে ৩৪ জনের মধ্যে পজিটিভ ১৮ জন, বাগমারায় ১৫ জনের মধ্যে পজিটিভ ৫ জন, মোহনপুরে ১৭ জনের মধ্যে ৩ জন পজিটিভ, তানোরে ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন পজিটিভ, পবায় ৮০ জনের মধ্যে ১২ জন পজিটিভ, গোদাগাড়ীতে ৪ জনের মধ্যে ১ জন পজিটিভ।

এদিকে চলতি মাসের ২১ দিনে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ২১ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২১৬ জন।

রাজশাহীতে গত ১১ জুন থেকে চলছে ‘বিশেষ লকডাউন’। এরপরও রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না। সেই সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করোনা রোগিদের জায়গা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালের আরো একটি সাধারণ ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করার কাজ চলছে। করোনা রোগিদের জন্য হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এখন অক্সিজেন সরবরাহ লাইনের কাজ চলছে বলে জানান শামীম ইয়াজদানী।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, সংক্রমণ ঠেকাতে জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হচ্ছে নিয়মিত। রোববার জেলাতে ২২ টি মামলায় ২২ জনকে মোট ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারাদ- দেওয়া হয়েছে দুইজনকে আর জেলায় মোট মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে ৮২০ টি। জেলায় মোট করোনা টেস্ট করা হয়েছে ১৬শো জনকে, এর মধ্যে ৩৭৭ জন পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। যার মধ্যে ১০০ জন গ্রামের।

তিনি জানান, উপজেলাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না এটা ঠিক। আমরাও নিয়মিত কঠোর ভাবে নজরদারি করছি। মানুষকে সচেতন করছি তবুও মানুষ সচেতন হচ্ছে না! উপজেলা গুলোতে এখনো মানুষ মাস্ক পরছে না এটা খুবই হতাশার বিষয়। সবাইকে সচেতন হতে হবে। তবেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

  • 132
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে